উচ্চ রক্তচাপের ৬ নীরব কারণ

Feb 19, 2017 09:35 am


মুনীর তৌসিফ

আমরা এখানে জানব উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ছয়টি নীরব কারণ সম্পর্কে, যা আপনার-আমার জীবনকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। অথচ এসব কারণ সম্পর্কে এমনকি আমাদের কিছুই জানা থাকে না। এসব কারণ জানা থাকলে, কারণগুলো দূর করা আমাদের জন্য সহজতর হয়, এবং অনেক ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি।

 

এক : মেডিকেশন
মেডিকেশন বলতে আমরা বুঝি ওষুধ প্রয়োগ বা ব্যবহারকে। চিকিৎসকের দেয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী কিংবা ব্যবস্থাপত্র বা লাইসেন্সবিহীনভাবে কিনে ব্যবহার করা ওষুধ অনেক সময় আমাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়ার কারণ হতে পারে। এসব ওষুধর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে : বিষাদগ্রস্ততানাশক ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি, রক্তাধিক্যজনিত অসুস্থতা দূরের ওষুধ এবং প্যারাসিটামল। আপনি জেনে অবাক হতে পারেন, নিয়মিত নন-স্টেরোইডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (ঘঝঅওউং) প্রয়োগের ফলেও রক্তচাপ সমস্যার সৃষ্টি হতে পাবে। এগুলো রক্তচাপের বড়ির ওপর কার্যকারিতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক সাধারণ চিকিৎসক ড. রিচার্ড ওয়ার্ড বলেন, ‘আমি দেখেছি যেসব রোগী প্রতিদিন নাপরক্সেন বা ইবোপ্রোফেন সেবন করেন, তাদের উচিত নিয়মিত রক্তচাপ মেপে দেখা। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ দিন ধরে এসব ওষুধ ব্যবহার করছেন, তাদেরকে অবশ্যই রক্তচাপ ওঠানামার ওপর নজর রাখতে হবে।


দুই : হারবাল সাপ্লিমেন্ট
হারবাল সাপ্লিমেন্ট তথা পরিপূরক প্রাকৃতিক ওষুধেরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কোনো কোনো সময় তা রক্তচাপের ওপর, আবার কোনো কোনো সময় তা রক্তচাপের ওষুধের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেতে পারে। এ ব্যাপারে যেসব ওষুধের ওপর বিশেষ করে নজর রাখা দরকার সেগুলোর মধ্যে আছে : আর্নিকা, বিটার ওরেঞ্জ (যার ওপর নাম সেভিলি ওরেঞ্জ অথবা ঝি শি), ইফেদ্রা (মা-শুয়াঙ্গ), জিনসেং, গুয়ারানা, সেন্ট জনস ওরট, রসুন, গিংকো এবং লাইকোরিক রুট। আপনি যদি হাইপারটেনশনের চিকিৎসারত থাকেন, তবে ডাক্তারকে জানান, কী কী হারবাল সাপ্লিমেন্ট আপনি ব্যবহার করছেন।


তিন : ঘুমের বঞ্চনা
অনেকের রাতে ঘুম কম হয়। চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় এর নাম স্লিপ ডেপ্রাইভেশন বা ঘুমবঞ্চনা বলা হয়। এক সমীক্ষায় জানা গেছে, যাদের রাতের বেলায় ৬ ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুম হয় তাদের উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিংবা বিদ্যমান হাইপারটেনশনের অবস্থা আরো খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। গবেষকদের বিশ্বাস, স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুয়ুতন্ত্র স্বাভাবিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখার জন্য স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুয়ুতন্ত্র স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। তাই প্রতি রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে চেষ্টা করুন।

 

চার : ফ্রুকটোজ পান করা
২০১০ সালে পরিচালিত কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, যেসব মহিলা ও পুরুষ বেশি পরিমাণে ফ্রুকটোজ পান করেন, তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তা সত্ত্বেও কিছু বিজ্ঞানী এ অভিমতের বিরোধিতা করেন। এরা বলেন, রক্তচাপ শুধু তখনই বাড়ে যখন চরম মাত্রায় ফ্রুকটোজ পান করা। কোমল পানীয়, ফলের রস, খেলোয়াড়দের পানীয় ও সুগন্ধি পানি তৈরির জন্য ফ্রুকটোজ একটি সাধারণ উপাদান।
আপনি কি এমন পানীয় চান, যা হাইপারটেনশন কমাতে সহায়ক হতে পারে? ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রমাণ করে দেখিয়েছে, দিনে তিন কাপ ব্ল্যাক টি উল্লেখযোগভাবে রক্তচাপের মাত্রা কমিয়ে রাখতে পারে।

 

পাঁচ : মদ ও অবৈধ নেশা
কেউ কেউ বলে থাকেন, অল্প পরিমাণে অ্যালকোহল বা মদ পান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতেও পারে। বিন্তু অধিক পরিমাণে মদপান আপনার বক্তচাপের মাত্রা বেশ বাড়িয়ে তুলতে পারে, কিংবা রক্তচাপের জন্য আপনার ব্যবহারের ওষুধের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে কোকেইন ও এম্পেথামাইননের মতো অবৈধ নেশাপণ্য একই ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

 

ছয় : স্ট্রেস ও রক্তচাপ
স্ট্রেস ও রক্তচাপের মধ্যে সম্পর্কটা কী, সে সম্পর্কে আমাদের এখনো অনেক কিছুই জানার বাকি। এখন আমরা জানি স্ট্রেস বা পীড়ন অনুভূত হওয়ার সময় রক্তচাপ সাময়িকভাবে কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। তবে এটি এখনো স্পষ্ট নয়, দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক স্ট্রেস আমাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি হাইপারটেনশনের জন্ম দিতে পারে কি না। তবে এটা বলা নিরাপদ যখন আপনি স্ট্রেস বা পীড়ন অনুভব করেন, তখন হয়তো আপনি একটু বেশি মাত্রায় খাবার খেয়েছেন, অতি মাত্রায় পান করেছেন অথচ কম ঘুমিয়েছেন, যা হাইপারটেনশনের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া আপনার যদি পীড়ন দেখা দেয়, তবে আপনি হারাতে পারেন আপনার নিজেকে সামলাবার ক্ষমতা। উদাহরণ টেনে বলা যায়, হতে পারে তখন আপনি আপনার রক্তচাপের ওষুধ সেবন এড়িয়ে যাবেন। কিন্তু স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ কৌশলগুলো যেমন, ব্যায়াম ও মেডিটেশন রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। অতএব এসব উপকার আদায় করতে, আপনি এখনই কেনো সচেষ্ট হবেন না?

‘আমরা যদি খুব দীর্ঘজীবী হই, তবে আমাদের ৯৫ শতাংশেরই উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করে আমরা এসব উচ্চ রক্তচাপ যথাসম্ভব কমিয়ে রাখতে পারি’ এই অভিমত ড. ওয়ার্ডের।