দালাল নয় দেশপ্রেমিক চাই

Mar 16, 2017 12:04 pm



আলফাজ আনাম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশী হস্তক্ষেপ নিয়ে গুরুতর তথ্য হাজির করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গত ১১ মার্চ ঢাকায় এক সমাবেশে বলেছেন ‘যাদের বিরুদ্ধে এত কথা বলে, সেই র-এর (ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা) প্রতিনিধি তো হাওয়া ভবনে বসে থাকত। আমেরিকান অ্যাম্বাসির লোক হাওয়া ভবনে বসে থাকত। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে হারাবে এবং এখান থেকে গ্যাস নেবে। আমি বলেছিলাম আল্লাহ তোমাদের গ্যাস দেবে না। বিক্রি তো দূরের কথা, গ্যাসই পায়নি। কিন্তু মুচলেকা তো দিয়েছিল (খালেদা জিয়া)। তাদের মুখে আবার এত ভারতবিরোধী কথা।’


অপর দিকে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে পরদিন ১২ মার্চ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘চীন থেকে সাবমেরিন কেনা নিয়ে শেখ হাসিনার সাথে ভারতের মান-অভিমান চলছে। শেখ হাসিনা চীন থেকে সাবমেরিন কিনেছেন, চুক্তি করেছেন। ভারত জানতে চেয়েছে, এ সাবমেরিন আপনি কার বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন? সে কারণে আজকে তাদের সাথে আপনাদের হয়তো মান-অভিমান চলছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, আপনাকে তারা রিজেক্ট করছে, আপনাকে বিশ্বাস করে না। আপনাদের মধ্যে খুব আন্তরিক সম্পর্ক আছে, সেই সম্পর্ক ভাঙা বা মচকানোর নয়।


এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ভারতের দালাল উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তারা দালালির কারণে স্থল ও সমুদ্রসীমা চুক্তি, গঙ্গার পানিসহ বাংলাদেশের অধিকার আদায়ের কথা কোনো দিন উচ্চারণই করেনি।’


কে কোন দেশের দালাল, এ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা আলোচনা আছে। বিএনপির ভারত কানেকশন এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করে এমন অভিযোগ এর আগে কেউ করেনি। প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় এই মন্তব্য করলেন, যখন তিনি ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন।


এই সফরে ভারতের পক্ষ থেকে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দেশে ও দেশের বাইরে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মতদ্বৈধতা রয়েছে বলে এসব খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৫ মার্চ হিন্দুস্তান টাইমসের একটি রিপোর্টের শিরোনাম ছিল New Delhi eyes big defence pact with Bangladesh during PM Hasina’s April visit। শেখ হাসিনার সফরে ভারতের দৃষ্টি বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে।


হিন্দুস্তান টাইমসের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে বড় আকারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। প্রস্তাবিত ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশে অস্ত্র (মিলিটারি হার্ডওয়্যার) বিক্রি করতে চাইছে। সেই সাথে দুই দেশের হুমকির বিরুদ্ধে একযোগে অভিযানে যেতে চাইছে। এ চুক্তি হলে ভারত অস্ত্র কেনার শর্তে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ (লাইন অব ক্রেডিট) দেবে, যা দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র কিনতে হবে। তবে বাংলাদেশে ব্যাপক ভারতবিরোধী মনোভাব থাকায় ও বাংলাদেশের প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় নতুন এ চুক্তিতে সম্মত হতে দ্বিধায় রয়েছে ঢাকা।


কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এপ্রিলে ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। এই সফরে যেভাবেই হোক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে হাসিনাকে সই করানোর চেষ্টায় ভারত। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে এটাই হবে কোনো দেশের সাথে নয়াদিল্লির সবচেয়ে বড় আকারের প্রতিরক্ষা চুক্তি। দুই দেশের কূটনীতিকরা চুক্তির শর্ত নিয়ে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছতে পারেননি তারা। এপ্রিলের আগেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়ার দিকে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।


হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, গত নভেম্বরে চীনের কাছ থেকে দুটো সাবমেরিন কেনায় বাংলাদেশের ওপর ক্ষুব্ধ ভারত। ঢাকার সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র জোগানদাতা চীন। গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকায় এসে ৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ভারত মনে করে, এতে চীনের আঞ্চলিক প্রভাব বেড়ে যাচ্ছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এতটা সহজ নয়। হাসিনাকে ভারতপন্থী নেতা বলে সমালোচনা করছে বিরোধীরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশ ভারতকে যতটা দিচ্ছে, তার সিকি ভাগও আনতে পারছে না। গত কয়েক বছরে শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে অনেক বড় বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন। সীমান্তে ভারতবিরোধী বিদ্রোহী দমনসহ কানেক্টিভিটি চুক্তি করে ভারতকে সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তিতে নয়াদিল্লি স্বাক্ষর করেনি। ২০১১ সালে এ ব্যাপারে সমঝোতা হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তি অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানির ফিফটি-ফিফটি শেয়ার চায় বাংলাদেশ।


ভারতের এই প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে এ দেশের গণমাধ্যমে তেমন কোনো খবর প্রকাশ হয়নি। হংকংভিত্তিক প্রভাবশালী পত্রিকা সাউথ চায়না মর্নিংপোস্টে ১ মার্চ আরেকটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। রিপোর্টের শিরোনাম Keener on arms from China, Bangladesh dithers on defence pact with India.
এ রিপোর্টটিও করেছেন ভারতের একজন সাংবাদিক, বিবিসি বাংলা বিভাগের এক সময়ের উত্তর-পূর্ব ভারতের সংবাদদাতা সুবীর ভৌমিক। সাউথ চায়না মর্নিংপোস্টের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়েক দফা স্থগিত করার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ অবশেষে এপ্রিলে ভারত সফর করতে রাজি হয়েছেন। তবে তার সরকার ভারতের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশটির সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করতে সেভাবে আগ্রহী নয়।


নয়াদিল্লি ২৫ বছরের জন্য ব্যাপকভিত্তিক একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি করতে আগ্রহী; কিন্তু ঢাকা একটি ঢিলেঢালা ধরনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পক্ষপাতী বলে মনে হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের সাথে বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।
সমঝোতা প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত বাংলাদেশের একজন শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘ভারত একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপকভিত্তিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি চায়, আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার মতো একটি শিথিল ও তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক একটি পদ্ধতি নিতে চাই। একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমেই এটি শুরু হতে পারে।’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করের সফরকালে বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে জানান।


এই বাংলাদেশী কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা ভারতের সাথে বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছি এবং আমরা একসাথে সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলা করতে চাই। তবে আমার মনে হয়, একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার জন্য সঠিক সময় এখনো আসেনি।’
ভারতের প্রস্তাবিত চুক্তিতে, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, ভারত থেকে বাংলাদেশে সামরিক সমরাস্ত্র বিক্রয় ও সরবরাহ এবং পারস্পরিক হুমকির বিরুদ্ধে সমন্বিত অপারেশন চালানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জামের বেশির ভাগ সংগ্রহ করে চীন থেকে, যা ভারতের জন্য বেশ উদ্বেগের বিষয়। সম্প্রতি চীন থেকে বাংলাদেশ দু’টি সাবমেরিন কেনার ব্যাপারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এমনকি বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবমেরিনের প্রয়োজন পড়ল কেন?


বাংলাদেশের সামরিক কর্মকর্তারা ভারত থেকে প্রতিরক্ষা হার্ডওয়্যার কেনার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তারা মনে করে, ভারত নিজেই সমরাস্ত্র বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল আর মানসম্পন্ন কিছু সমরাস্ত্র আছে, যা দেশটি রফতানি করতে পারে। তারা নেপাল ও মিয়ানমারে সরবরাহ করা নিম্নমানের সামরিক সরঞ্জামের কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বলেছেন, সে তুলনায় চীনা সমরাস্ত্র সস্তা এবং ব্যবহার করা সহজ।
এ দিকে ভারত এখন সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য বাংলাদেশকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ দিতে চায়। এই অর্থ দিয়ে শুধু ভারত থেকে সমরাস্ত্র কেনা হবে। বাংলাদেশ অবশ্য ৫০ কোটি ডলারের এই ঋণ প্রস্তাব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য পেট্রোল ক্রাফট এবং এয়ার ডিফেন্সের রাডার কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দিতে চান না। প্রতিরক্ষা বিষয়ে তিনি সেনাবাহিনীর পরামর্শে অগ্রসর হতে চান বলে পরিচয় প্রকাশ না করা শেখ হাসিনার একজন শীর্ষ উপদেষ্টা জানিয়েছেন।


বাংলাদেশের ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থানের অনেক ঘটনা রয়েছে। ১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা এর শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবশ্য সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক অনেকটাই বিকশিত হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা এখনো তার জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা পছন্দ করেন না এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে সামরিক বাহিনীর পরামর্শ অনুসারে অগ্রসর হতে চান।
একই সাথে তিনি চীন ও ভারতের সাথে তার দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে আগ্রহী। ঢাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত। যদিও চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন তহবিল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত নভেম্বরে ঢাকায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের সময় ২৫ বিলিয়ন ডলার উন্নয়ন অর্থায়ন চুক্তি সই করেছে চীন ও বাংলাদেশ।


গত ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত দিল্লি সফর দুইবার স্থগিত করা হয়েছে। যদিও উভয় দেশের পররাষ্ট্র দফতর দুই প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে সফর পেছানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। তবে অচলাবস্থার মূল কারণ হলো অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি।
হিন্দুস্তান টাইমস ও সাউথ চায়না মর্নিংপোস্টের এসব রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য, চীনের সাথে বাংলাদেশের যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তা থেকে দূরে রাখা। চীন থেকে কেনা যে সাবমেরিন নিয়ে ভারত ক্ষুব্ধ, সেই সাবমেরিন দু’টির কমিশনিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম নৌ-জেটিতে নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামে সাবমেরিন দু’টি কমিশনিং দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে একটি শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন আক্রান্ত হলে বাংলাদেশ তার সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকবে। আমরা কারো সাথে কখনো কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি আক্রমণ করে তাহলে আমরা তার সমুচিত জবাব দিতে পারি; সে প্রস্তুতি আমাদের থাকবে। সে দিকে লক্ষ রেখেই আমরা যা যা করণীয় করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের যা কিছু প্রয়োজন, তা আমরা সংগ্রহ করব। কারণ, এগুলো হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।


কিন্তু এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশ এগিয়ে নেয়ার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা যদি পরস্পরকে ভারত বা পাকিস্তানের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করেন তাহলে কখনোই নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের নির্বাচনে ভারত-মার্কিন হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সুজাতা সিং কী ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছেন। এই স্মৃতি এখনো মানুষের চোখে ভাসছে। এ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ভারত-পাকিস্তান বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দালাল হোক সাধারণ মানুষ তা চায় না। রাজনৈতিক দলগুলো আপন শক্তিতে জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করুক, এটাই চায়। এমন একটি শক্তিশালী দেশ তারা দেখতে চায়, যে দেশ জল-স্থল-অন্তরীক্ষে তার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে পারে। যে দেশের সীমান্তে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হবে না কিংবা সমুদ্র থেকে কোনো জেলেকে ধরে নেয়া হবে না। যে দেশের প্রত্যেক মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবে।