ট্রাম্প-ভক্তিতে খুশি থাকা ভারতীয় হিন্দু মন এখন বিপদে

Apr 20, 2017 10:29 am

 

গৌতম দাস


ঘটনা বহুবিধ তামাশার। যেন সেই বহু পুরান প্রবাদ যে, দাঁত থাকিতে কেউ দাঁতের মর্ম বুঝে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী দাবিদার হয়ে বাজারে আসার পর থেকে এ নিয়ে ভারতের সরকার ও এক শ্রেণীর মানুষের খুশি ছিল দেখার মতো। কেন? এতে ভারতের খুশি হওয়ার জন্য আবার কী হলো? ভারতের সরকারি ইঙ্গিতে প্রকাশিত অবস্থান ছিল তারা খুশিতে আহ্লাদিত। তাদের অনুমান ছিল যে ট্রাম্প জিতলে জুনিয়র বুশ আমলের (২০০১-৮) মতো ইসলাম দাবড়ানোর মজা আর মজা আবার ফিরে আসতেছে। খালি মুসলিম ব্যাশিং, মুসলমান দেখলেই দাবড়ানো আর চাপে রাখার নীতি ফিরে আইতেছে। যেমন, এতে তারা পাকিস্তানের ওপর আমেরিকার চাপ বাড়ানোর দিন ফিরে আসতেছে বলে দেখত। চাপ মানে হলো, পাকিস্তান যেন আলকায়েদাবিরোধী আমেরিকার লড়াই আমেরিকার হয়ে লড়ে দিবার ফ্রন্টাল রাষ্ট্র নয়। আফগানিস্তানে আলকায়েদার উত্থান ও তৎপরতা যেন পাকিস্তানের কারণেই, পাকিস্তানের ইচ্ছায় শুরু হয়েছে বা পাকিস্তানই করেছে এটা ভাবতে এরা ভালোবাসে।

অথচ মূল ঘটনাটা হলো আসলে, আলকায়েদা টাইপের রাজনীতির সঙ্গে আমেরিকার রাজনৈতিক লড়াই। কিন্তু আমেরিকা এই লড়াইটা লড়তে চায় এক. এই বয়ানের আড়ালে যে শুধু আলকায়েদারা টেররিস্ট নয়, মুসলমান মাত্রই টেররিস্ট। দুই. ‘টেররিস্ট’ শব্দটা এনে এই যুদ্ধে নিজের দায়ভার উলটে সে মুসলমানের ওপর দিতে চায় এবং ‘ওরা’ খারাপ এই দায়ভারে অভিযুক্ত করতে চায়। এর ওপর আবার আমেরিকান নির্বাচনে এসে ট্রাম্প আরো এক উলটা গান ধরতে চায়। ‘মুসলমানেরা দুনিয়ায় গণ্ডগোল করছে’ এই আগাম অনুমিত বয়ানের ওপর দাঁড়িয়ে এইবার বলতে চায় যে, তাই ট্রাম্প মুসলমানদের আমেরিকায় ঢোকা বন্ধ করে আমেরিকানদের জীবন সুরক্ষা করার পথে যেতে চায়। সে কারণে নির্বাচনে এক অভিনব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ট্রাম্প যে, সে নির্বাচিত হওয়ার পর দুনিয়ার মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করবে। প্রমাণহীন এই বয়ানের বাস্তবায়নের ঝামেলা এবং এতে ট্রাম্পের বর্ণবাদ ছড়ানোর বিপদ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প এই ধারণাকেই ছড়িয়ে পপুলার করার পথ ধরেছিল। তিনি কথা টুইস্ট করে কথার ফাঁক তৈরি করেন। তিনি এক. বয়ানে তিনি দুনিয়ার মুসলমান মাত্রই টেররিস্ট এই ধারণা বজায় রাখতে চান কিন্তু এ নিয়ে সিদ্ধান্তের সময় কেবল সাত রাষ্ট্রের (সারা দুনিয়ার না) মুসলমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চান। দুই. আবার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় যেকোনো দেশের মুসলমান মাত্রই কার্যত তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ইমিগ্রেশনে ব্যবহার করতে চান। তিন. তিনি ভাব ধরতে চান যে তার এই সিদ্ধান্ত যেন আজীবনের। কিন্তু আদেশে তিনি লিখতে চান যে না, এই সিদ্ধান্ত তিন মাসের। অর্থাৎ এটা সাময়িক। ব্যাপারটা নির্বাহী আদেশের মধ্যে ‘সাময়িক’ তা বলে রাখতে চান এ জন্য যে তাহলে আসলে যে ‘দুনিয়ার মুসলমান মাত্রই টেররিস্ট’ এবং ‘মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশ বন্ধ করে দিলে আমেরিকানদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে’ এর কোনো প্রমাণ বা স্টাডি ট্রাম্পের কাছে না থাকলেও তার সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো সাফাই তাকে দিতে হবে না। কারণ তিনি বলতে চান এ বিষয়ে আমেরিকান সরকারের নীতি কী হবে তাই নিয়ে তার সরকার বোঝাবুঝি শেষ করার জন্য এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ তার দরকার।

এই হলো ট্রাম্পের সাফাই। আবার এই কাজটাও তিনি বর্ণবাদ ছড়িয়ে করতে চান। কিন্তু মুসলমান মাত্রই সে অভিযুক্ত ও টেররিস্ট বয়ান এমন বানানোটা তো বর্ণবাদী। তাহলেও এই বর্ণবাদ করার লোভ ট্রাম্প ছাড়তে চান না। এমনকি কোনো মুসলমান আমেরিকান নাগরিক বা আমেরিকায় বসবাস ও চাকরি করতে অনুমতিপ্রাপ্ত গ্রিনকার্ডধারী ব্যক্তির বেলায়ও কেবল তিনি মুসলমান হলেই তার ওপর ইমিগ্রেশন নিষেধাজ্ঞা বলবত করতে চান ট্রাম্প। এইভাবে মুসলমান অধিবাসীর ওপর আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প। যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত আমেরিকান আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে তা টেকাতে পারেনি। বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু ট্রাম্পের এসব মিলিয়ে মুসলমান ব্যাশিং বা পেছনে লাগা এটার ভেতরেই ভারত সরকার নিজের স্বার্থ দেখেছিল। কারণ এই মুসলমান ব্যাশিং ও বিদ্বেষের মধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কূটনৈতিক সুযোগ সম্ভাবনা, এই নীতি বাস্তবায়নে আমেরিকাকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলার সুবর্ণ সুযোগ জুটে যাওয়া হিসেবে দেখেছিল ভারতের আমলা-গোয়েন্দা চক্র। এ ছাড়া মোদির মতো রাজনীতিকরা মুসলমানবিরোধী রেঠরিক আওয়াজ তুলে আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ও ভোটের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। আর এ সব কিছু মিলিয়ে আমরা ভারতের কোনো অর্ধ-আরবান শহরেও রাস্তায় রাস্তায় ট্রাম্পের ছবি টাঙিয়ে ফুল আর ধুপধুনো দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘণ্টা নেড়ে পূজা করা হতে দেখেছি আমরা। এটা ঠিক আর পূজা থাকেনি। ইসলামবিদ্বেষ আর ঘৃণা ভারতে কত তীব্র তাই আমরা দেখেছিলাম।

অবলীলায় বর্ণবাদের খোলাখুলি এত প্রকাশ বোধ হয় আর কিছুতে প্রকাশিত হতে দেখিনি। ভারতে কোনো বর্ণবাদবিরোধী হুঁশজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ বসবাস করে মনে হয়নি। আদালতের বাধায় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা এক-দেড় সপ্তাহের বেশি কার্যকর থাকতে পারেনি। কিন্তু অতটুকু সময়েই এমনকি ভারতীয়দের এমন তর্ক করতে দেখেছি যে তারা বলছে, ইসরায়েলে যেতে বাংলাদেশের পাসপোর্টে যেহেতু নিষেধাজ্ঞা জারি আছে অতএব এরই সমতুল্য ঘটনা নাকি ট্রাম্পের ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি’। একটা পারস্পরিক আইনি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা আর ফলে কেবল নিজ দেশের নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টাকে ট্রাম্পের ‘মুসলিম ব্যানের’-এর সাথে জবরদস্তিতে তুল্য ঘটনা বানিয়েছে এরা। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কোনো একটা রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে যে রাষ্ট্রের সাথে সমস্যাটা আইনি কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা না থাকা। পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা মানেই সেটা বর্ণবাদী সমস্যা নয়। চীনে মাওয়ের বিপ্লবের পর থেকে পরের ২২ বছর চীন-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু সেটা বর্ণবাদী সমস্যা নয়। ওদিকে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ধরন নিজ নাগরিক ওপর নয়। বরং দুনিয়ার এক বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়ের ওপর (বর্ণবাদী কায়দায়)। এমনকি ওই ধর্ম সম্প্রদায়ের যেকোনো দেশী বা বিদেশী নাগরিকের ওপর। অথচ ট্রাম্পপ্রেমী ইসলামবিদ্বেষী এমন সাফাই গাইতে আমরা দেখেছি। ভারতের আমলা-গোয়েন্দার এই ইসরায়েল-প্রেম তাদেরকে কূটনৈতিক মাইলেজ দেবে বলে তারা বিশ্বাস করে।


কিন্তু বেশি দিন লাগেনি। বেচারা ভারতের আমলা-গোয়েন্দা। আর ট্রাম্পকে আক্ষরিকভাবেই পূজা-কারি সেই পেথিটিক আরএসএস ভোটাররা। ট্রাম্পের ক্ষমতার শপথ নেবার মাত্র একমাস এর মধ্যে ভারত টের পেতে শুরু করে যে ঘটনা কল্পনামতো আগাচ্ছে না। ট্রাম্প জুনিয়র বুশ না; যে আমেরিকার ইসলামবিদ্বেষী নীতি মানেই তা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কোলে ভারতীয় হিন্দু রাজনীতির উঠে পড়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার এক্সট্রা মাইলেজ নয়। বুশের আমলের রমরমা সুযোগ ট্রাম্পের হাত ধরে ফিরে আসছে না। ভারতের আমলা-গোয়েন্দা ট্রাম্পকে পাঠ করেছিল সহজভাবে, এক ইসলামবিদ্বেষী ক্রুক হিসেবে। হিন্দু রাজনৈতিক মন এখানে প্রায় শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।
তারা প্রথম ধাক্কাটা খায় ‘ভারতীয়রা আমেরিকানদের চাকরি খাচ্ছে’ ট্রাম্পের এই ইস্যুতে। এটা আমলা-গোয়েন্দারা আগে খেয়াল করেনি এমন না। তারা ভেবেছিল একটা ‘প্যাচ আপ’ বা রফা তারা বের করে ফেলতে পারবে। এটাই নজর আন্দাজ। ট্রাম্প কী নিয়ে রাজনীতি করতে চাচ্ছে তারা এটা শুধু বুঝেইনি তা নয়, একে আন্ডার এস্টিমেট করেছিল। ট্রাম্পের এই নির্বাচনের সাথে সাথে আমেরিকান সংসদ (কংগ্রেস) ও সিনেটের নির্বাচনে সবই রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতায় চলে যায়।

গত বছর নভেম্বরে নির্বাচনের ফল আসার পর থেকেই প্রথমত ‘আমেরিকানদের চাকরি খাওয়ার’ বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়া এটা একলা পাগলা ট্রাম্পের ইস্যু নয়। এর প্রমাণ হলো, পরের মাস থেকে ট্রাম্পের আগেই লিড নিয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেস ও সিনেট চাকরি খাওয়া ইস্যুতে নিয়ে নতুন আইন, চাকরি আমেরিকার বাইরে চলে যাওয়া ঠেকানো আইন প্রণয়ন শুরু হয়। যে প্রক্রিয়া শুরুর আড়াই মাস পর ট্রাম্প শপথ নিয়ে যোগ দিয়েছিল। এর চেয়েও বড় কথা নতুন আইনের প্রস্তাবে কেবল রিপাবলিকানই না, ডেমোক্র্যাটদেরও তাতে সমর্থন আছে শুধু না, কোনো কোনো আইনের প্রস্তাবক বাই-পার্টিজান, মানে দুই দল মিলে। সারকথায় ট্রাম্প আমেরিকানদের চাকরি খাওয়াকে নিজের নির্বাচনী ইস্যু করলেও ইস্যুটা ছিল বাই-পার্টিজান। যে ঘটনার আসল অর্থ তাৎপর্য হলো, আমেরিকা ক্রমেই পতন হইতেছে এমন এক পরাশক্তি কানে পানি যাওয়ার এই অনুভব সবার, সব দলের। ফলে সবাই চাইছে আমেরিকার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে রিপাবলিকানদের লিডে সবাই একসাথে সমর্থনে খাড়ানো। ট্রাম্প লিড নিলেও অন্তত এই ব্যাপারটাতে পেছনের অবস্থানগুলো এ রকম। এ দিকটাই ভারতীয় আমলা-গোয়েন্দাসহ অনেকেই আন্ডার এস্টিমেট করেছে। ভেবেছে এটা কেবল পাগলা ট্রাম্পের ইস্যু। ফলে ট্রাম্পের মুসলমান ব্যাশিংয়ে খুশি হওয়া ভারতীয় হিন্দুমন অচিরেই বুঝতে শুরু করে যা ট্রাম্প তাদের বাবা অথবা দেবতাও নয়। ভারতীয় যারা আমেরিকানদের চাকরি খায় তারা ‘এইচ-১ বি’ ক্যাটাগরির ভিসায় আমেরিকা গিয়ে চাকরি করে। আর ভারতে বসে কল সেন্টার ব্যবসা করা অথবা সফটওয়্যার তৈরির শ্রমঘন অংশটা ভারত থেকে করে আনা এগুলোকেই আমেরিকান চাকরি বাইরে থেকে করে আনা বা আউটসোর্সিং বলা হয়। এ সব কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন চলছে এখন। এসব খবর পেয়ে ভারতীয়দের টনক নড়া শুরু হয়। শেষ চেষ্টা হিসেবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারত সব ধরনের লবি করা প্রায় শেষ করেছে। কিন্তু ফলাফল শুন্য। ট্রাম্প বুশ নয়, এটা ট্রাম্পের আমল দিন বদল গয়া। ভারত সরকার ইসলামবিদ্বেষী উচ্ছ্বাসে আমেরিকার এক নম্বর দোস্ত এলিট বুশের আমলের সেই পুরান আলাপ ট্রাম্পের আমলে অচল। এটা বুঝতেই আন্ডার এস্টিমেট করে ভারত ধরা খেয়েছে। ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষ বুশের ইসলামবিদ্বেষ নয়। ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী ড্রাম-পেটানো মূলত বিদেশী খেদাও, ইমিগ্র্যান্ট খেদাও দেশী মানুষের চাকরি বাঁচাও এই লাইনের।


ঘটনা এক, ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিবসহ কূটনীতিকেরা আমেরিকায় লবি সফর শেষ করে ভারতে পা দিয়ে যেই না বলেছে, ‘চাকরি ইস্যুতে’ আমেরিকার আশ্বাস দিয়েছে সে বলা শেষ না করতেই কল সেন্টারবিরোধী বিল পেশ, অথবা ‘এইচ-১ বি’ ক্যাটাগরির ভিসার সুযোগ-সুবিধা একটার পর একটা ছেটে দেয়ার খবর ভারতীয় মিডিয়ায় ছেয়ে গেছে।


ঘটনা দুই. আরো যেসব নেগেটিভ কাহিনী ভারতীয় মিডিয়া নিচু আলোয় ফেলে রেখে এত দিন লুকায়ে রাখতে চাইছিল সেগুলো এখন উথলে সামনে আসছেই। আনন্দবাজার এখন লিখছে, ‘তালিকাটা দীর্ঘ হচ্ছে ক্রমশ। শ্রীনিবাস কুচিভোটলা, হার্নিশ পটেলের পরে দীপ রাই। আমেরিকায় ফের গুলিবিদ্ধ এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত’। ভারতীয়রা আমেরিকায় এসে আমেরিকানদের চাকরি খাচ্ছে তাই ভারতীয়দের আক্রমণ বা খুন করে দেশে ফিরে যাওয়ার ‘নকশালী চিরকুট প্রচার’ শুরু হয়েছে, সে কথাই এখন মিডিয়া বলছে। আনন্দবাজারের আর এক রিপোর্টের প্রথম বাক্য এ রকম, ‘এক দিকে কূটনৈতিক স্তরে মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দৌত্য। অন্য দিকে, ভারত-মার্কিন বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে দিয়ে ট্রাম্প নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরি করা। আমেরিকায় কর্মরত এবং বসবাসকারী ভারতীয়দের পেশা এবং নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এই দু’টি মাধ্যমে সক্রিয়তা চূড়ান্তপর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে নয়াদিল্লি।’ অথচ এক মাস আগেও মুসলিম ব্যানে আমরা ভারতীয় সরকার ও ভোটারদের উচ্ছ্বাস দেখেছিলাম। আর এখন আনন্দবাজার সেই ট্রাম্পের হাতে ‘ভারতীয়দের পেশা এবং নিরাপত্তা’ নিয়ে উদ্বিগ্নতা খুঁজে পাচ্ছে। আর ওপরে যে ‘ভারত-মার্কিন বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে দিয়ে’ বলতে দেখলাম ভারতের আমলা-গোয়েন্দারা এদেরকে দিয়েই আমেরিকায় বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছিল। এ ছাড়া আনন্দবাজার নিজের এক সম্পাদকীয় লিখে বসেছে। যেখানে এক ধরনের লজ্জার মাথা খেয়ে আত্মসমালোচনাও আছে। অনলাইন আনন্দবাজারের সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের নামে ৬ মার্চ সম্পাদকীয় শিরোনাম হলো, ‘পড়শিরা যখন আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তখন পাশ ফিরে শোয়াটা উচিত হয়নি’। অর্থাৎ মুসলমান ব্যাশিংয়ের ‘আসল মজা’ এখন টের পাচ্ছেন অঞ্জন। তাই দল ভারী করতে ‘উচিত হয়নি’ বলে নিজেরই সমালোচনা করছে। কিন্তু আর কি সে দিন আছে? নিজের বিশ্বাযোগ্যতা?


শেষ করব আর একটা তথ্য দিয়ে। আগেই বলেছি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভারতীয় বাঙালিরা, ট্রাম্পের মুসলিম ব্যানের নির্বাহী আদেশের আর ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়িয়ে আমাদের পাসপোর্টে ইসরায়েল ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে নিয়ে ঠাট্টাতামাশা করেছিল। গতকাল ১০ মার্চের খবর, ট্রাম্পের মুসলিম ব্যানের নির্বাহী আদেশে খুশি হওয়া ভারতীয়রা জানছে ভারতীয়রাও এই ব্যান থেকে বাইরে নন। আনন্দবাজারের খবর ট্রাম্পের দেশ ‘আমেরিকায় ঢোকা বারণ মনপ্রীতেরও’। সবচেয়ে বিস্ময়কর শব্দ হলো ‘ও’, মনপ্রীত নামে মুসলমান নয় এমন ভারতীয় মেয়েটাও। কানাডীয় নাগরিক হয়েও ভারতীয় শিখ অরিজিন মনপ্রীত আমেরিকার ঢুকতে পারেননি। ভারতীয়দের হয়ে আনন্দবাজার এতে খুবই কষ্ট পেয়েছে। এর পরেও কি হিন্দুমন ইসলামবিদ্বেষ বা বর্ণবাদী অবস্থানত্যাগী হবে? হিন্দুগিরি নয়, সাধারণভাবে যেকোনো মানুষের অধিকারের পক্ষে নীতিগত অবস্থান নেবার তাগিদ বুঝবে? আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি!