প্রযুক্তি খাতের ক্ষমতাধররা

Apr 20, 2017 10:47 am

 

২০১৬ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এ ক্ষেত্রে ব্যবসায় প্রযুক্তির বাজারে প্রভাব বজায় রাখা শীর্ষ ৩২ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন সাইট বিজনেস ইনসাইডার। এ তালিকায় থাকা কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার


মাইকেল ডেল
ডেল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী

৩০ বছর আগে মাইকেল ডেল নামে এক তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছিলেন একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এই দীর্ঘ ৩০ বছরে মাইকেল ডেলের গড়ে তোলা সেই প্রতিষ্ঠানই পরিণত হয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে। নিজের নাম ব্যবহার করেই মাইকেল ডেল তার প্রতিষ্ঠানের নাম রেখেছিলেন ‘ডেল’। মাইকেল সল ডেল একজন মার্কিন শিল্পোদ্যোক্তা যিনি ডেল ব্র্যান্ডের কম্পিউটার কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা। তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় তিনি ডেল ইনকরপোরেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী। ছোটবেলায় জমানো এক হাজার ডলার মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ১৯৮৪-এ কম্পিউটার উৎপাদনের লাইসেন্স গ্রহণ করেন তিনি। এরপর মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন নিজের প্রতিষ্ঠানেই। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ২০১১ সালে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই যুগে তিনি ডেলকে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় কম্পিউটার ব্র্যান্ডে উন্নীত করেছেন তিনি। মাইকেল ডেল বর্তমানে ডেলের চেয়ারম্যান এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। তার নেতৃত্বেই ২৯ বছরে ডেল শুধু বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পিসি নির্মাতাতেই পরিণত হয়নি মাইকেল ডেলকেও পরিণত করেছে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে।
এক ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, পথচলার সময় অবশ্যই মনে রাখবে, তুমি কোত্থেকে এসেছ। যে জায়গায় আমাদের জন্ম, সেখানকার ধুলোবালি আর স্বপ্ন সবাই আমরা লালন করি। পুরো পথেই নিজেকে প্রশ্ন করবে তুমি, ‘আমি কেন এই পথে? এর একটা উত্তর আমি তোমাদের বলতে পারি। সেটা হলো, জিততে। এই জেতাটা হচ্ছে নিজের সম্ভাবনাময় শক্তির জয়। এই জেতাটা হলো শ্রেষ্ঠ হিসাবরক্ষক, প্রকৌশলী অথবা শিক্ষক হওয়ার যে সম্ভাবনা তোমার মধ্যে আছে, সেটার জন্য নিজেকে বিশ্বাস করা। অন্য কারো সাফল্য দেখে নিজের সফলতাকে বিচার করো না।
আমি খুব সৌভাগ্যবান যে আমি আমার আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে সম্পর্কে সন্দেহাতীত ছিলাম জীবনের শুরু থেকেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। কিন্তু কম্পিউটারের সব বইপত্র, যন্ত্রপাতি আমাকে খুব টানত। হলে আমার রুমমেটও সে রকমই বলত। ১৯ বছর আগে ১৯৮৪ সালে আমার বয়স তখন ১৯। আমি ডেল নিয়ে কাজ শুরু করি, হলের ওই ঘরেই।
কোনো বিষয়ে তার আগ্রহ বেশি এটা অনেক মানুষই অনেক পরে জানতে পারে। আবার কেউ কেউ আছে, যারা এটা কখনোই জানতে পারে না। এরই মধ্যে তুমি যদি তোমার লক্ষ্যটাকে স্থির করে থাকো অথবা খুঁজছ এমন হয়, মনে রেখো, কৌতূহলই এনে দেবে তোমার জীবনের সফলতা। স্বপ্ন সত্যি করতে তোমার ভেতরে যে ‘তুমি’ আছে, তার কথা শুনতে হবে। আকাক্সক্ষা যদি বড় হয়, তোমার স্বপ্ন সত্য হবেই। সততা, নৈতিকতা ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি তোমার স্বপ্নের সঙ্গে আপস না করো, তুমি সফল হবেই।'

 

সত্য নাদেলা
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা ১৯৬৭ সালের ১৯ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ প্রযুক্তিবিদ হায়দরাবাদ পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাট চুকিয়ে মনিপাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
১৯৯২ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেন সত্য নাদেলা। বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষ সফটওয়্যার কোম্পানিতে যোগদানের আগে সান মাইক্রোসিস্টেমসের হয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে ওই কোম্পানিটি ওরাকল করপোরেশনের মালিকানাধীন। নাদেলা মার্কিন প্রভাবশালী সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিটির প্রথম নন-আমেরিকান সিইও। বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ২০০ টেক সিইওর তালিকার শীর্ষ চার নম্বরে রয়েছেন সত্য নাদেলা। এ ছাড়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিইওদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পান নাদেলা। তিনি বার্ষিক সম্মানী হিসেবে পান ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ ডলার।
বেশির ভাগ ভারতীয় নাগরিকের মতোই সত্য নাদেলা ক্রিকেটের অনেক বড় ভক্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় স্কুলক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে নাদেলা বলেন, ক্রিকেট খেলা থেকেই তিনি দলবদ্ধ হয়ে কাজ করা এবং নেতৃত্ব দেয়ার শিক্ষা পেয়েছেন। এর পাশাপাশি নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ রাশিয়ান উপন্যাস পছন্দ করেন তিনি। প্রযুক্তি ছাড়াও সত্য নাদেলা কবিতা পড়তে ভালোবাসেন। মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার প্রোফাইলের পাশে অন্যতম শখ কবিতা পড়ার কথা উল্লেখ আছে। তিনি তার বক্তৃতায় মাঝে মধ্যেই বলেন, কবিতা ও কোডিং অনেকটা একই জিনিস। অর্থাৎ কোনো একটি বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরতে অসংখ্য বাক্য ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সেটাকে সংক্ষিপ্ত করে কয়েক বাক্যের মধ্যে নিয়ে আসাই কবিতা। ‘হিট রিফ্রেশ’ নামে নিজস্ব বই নিয়ে কাজ করছেন নাদেলা। তিনটি বিষয়কে ভিত্তি করে এ বই লিখছেন তিনি। মাইক্রোসফটে যোগদানের বছরই, অর্থাৎ ১৯৯২ সালে সত্য নাদেলা তার স্কুল সহপাঠী অনুপমার সাথে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে ওয়াশিংটনের বেলভিউয়ে বসবাসকারী এ দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

 

ল্যারি এলিসন
ওরাকল-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান

সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকলের প্রধান ল্যারি এলিসন। ওরাকলের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী তার পরিচিতি। ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে জন্মগ্রহণ করেন এই সফটওয়্যার ব্যবসায়ী। তার বাবা ছিলেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। যিনি ছিলেন মার্কিন এয়ারফোর্সের পাইলট। ছোটবেলা থেকেই খুব পরিশ্রমী ও প্রতিকূল পরিবেশে বড় হয়েছেন ল্যারি। শত বাধা সত্ত্বেও নিত্যনতুন গবেষণার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। স্কুল অব শিকাগো থেকে গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৭০ সালটা ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। সে সময় তিনি একটি ডাটাবেজ তৈরি করেছিলেন, যা পরে ওরাকল নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। সেই সময় থেকেই ডাটাবেজ নিয়ে নিত্যনতুন গবেষণায় মেতে ওঠেন দুই সন্তানের জনক ডাটাবেজের এই উদ্যোক্তা। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে তার অবস্থান। ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বধনীদের তালিকায় আসতে শুরু করেন ওরাকলের এই প্রধান নির্বাহী। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে তিনি বিল গেটসের পর শীর্ষ ধনীর তালিকায় স্থান পান। শুরুতে অনেকটাই প্রচারের আড়ালে ছিলেন তিনি। তবে খুব বেশি দিন লুকিয়ে রাখতে পারেননি নিজেকে। বর্তমানে তিনি বিশ্বসেরা ধনীদের কাতারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওরাকলের এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ল্যারি এলিসন তার প্রতিষ্ঠানকে বিজনেস নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রেরই ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনসকে (আইবিএম) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির জরিপ অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে সার্ভার বাজারে আয়ের দিক থেকে ওরাকল এখন চার নম্বর। ওরাকলের আগে রয়েছে যথাক্রমে হিউলেট প্যাকার্ড, আইবিএম ও ডেল। আর বাজার দখলের দিক থেকে হিউলেট প্যাকার্ড, আইবিএম, ডেল ও ওরাকলের অবস্থান যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ, ২৭ দশমিক ৩, ১৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে বাজার দখলবিষয়ক তথ্যে গলদ থাকতে পারে বলে ল্যারি এলিসন মনে করেন। অবাক করার বিষয় হলো, ল্যারি এলিসন ২০১২ সালে ৫০ কোটি ডলার দিয়ে লানাই নামে একটি দ্বীপ কেনেন। এই দ্বীপটিকে তিনি টেকসই বাসস্থানের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলছেন। দ্বীপটিতে আসা-যাওয়ার জন্য একটি বিমানও কিনেছেন তিনি। এর বাইরে দ্রুততম গাড়ি এবং সামরিক বিমান কেনার শখ রয়েছে তার।

 

মেগ হুইটম্যান
হিউলেট প্যাকার্ড এন্টারপ্রাইজের প্রধান নির্বাহী

হুইটম্যান নামেই তিনি ব্যবসায়ীক দুনিয়ায় সুপরিচিতি। পুরো নাম মার্গারেট কুশিং হুইটম্যান। ১৯৫৬ সালের ৪ আগস্ট নিউ ইয়র্কের কোল্ড স্প্রিং হারবার শহরে তার জন্ম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া শহরে বসবাস করছেন। রিপাবলিকান রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ তার পছন্দ। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে অর্থনীতিতে বিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে ১৯৭৯ সালে এমবিএ শেষ করেন। ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের মা।
১৯৭৯ সালে সিনসিনাটিতে প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলের ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে তার কর্মজীবনের সূচনা। এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। কাজের হাতেখড়ি দ্য ওয়াল্ট ডিজনিতে। কাজের মাধ্যমে প্রথম কর্মক্ষেত্রেই বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন হুইটম্যান। এরপর একে একে নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন ড্রিমওয়ার্ক এবং হ্যাজব্রোর মতো প্রতিষ্ঠানে। একান্ত কর্মনিষ্ঠা আর পরিশ্রম যে কাউকেই মেলে ধরে। মেগ হুইটম্যান যেন তারই প্রমাণ। তিনি বিশ্বাস করেন, সফলতার প্রথম শর্তই হচ্ছে মেধাশ্রম। বর্তমানে বিশ্বের আলোচিত সিইও। সফল নারীরা সাধারণ মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেন। তেমনই একজন সফল নারী মেগ হুইটম্যান। বিশেষ করে নারী অঙ্গনে সাফল্যের অগ্রদূত মনে করা হয় হুইটম্যানকে। স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট আধিপত্যের সময়ে হুইটম্যান এখনো বিশ্বাস করেন ডেস্কটপ কম্পিউটারের দিন শেষ হয়ে যায়নি। ভবিষ্যতের জন্য ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্বো ডিভাইসের গবেষণা করছে এইচপি। এইচপিতে বছরে মাত্র এক ডলার বেতন নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। তবে নগদ অর্থ এবং এইচপির শেয়ার নিচ্ছেন তিনি। ২০১২ অর্থবছরে ২৪ লাখ ডলার বোনাস নিয়েছেন। এ ছাড়া এইচপির লক্ষ্য পূরণে তিনি ৬০ লাখ ডলার বোনাসও পাবেন। হুইটম্যান ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল অবধি অনলাইন নিলাম সাইট ইবে-এর সিইও ছিলেন। তার আমলেই ইবে মাত্র ৩০ জনের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার কর্মীর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বার্ষিক আয় ৪০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়।

 

ডেমিস হাসাবিস
গুগল ডিপমাইন্ড-এর প্রধান নির্বাহী

ইন্টারনেট জায়ান্ট গুগল সার্চ ইঞ্জিনের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি কোম্পানি অধিগ্রহণ করেছে। গুগল ৪০ কোটি ডলারে ব্রিটেনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ড টেকনোলজিকে কিনে নেয়। গুগলের নতুন কেনা এই কোম্পানিটি কাজ করবে সার্চ বিভাগের অধীনে। সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রকল্পে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সার্চ ইঞ্জিনের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাবে বলে জানা গেছে। ডিপমাইন্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা হলেন ৩৭ বছর বয়সী স্নায়ুবিজ্ঞানী ও সাবেক কিশোর দাবাড়ু ডেমিস হাসাবিস। এ কাজে শেন লেগ ও মুস্তাফা সুলেইমান নামে অপর দুইজন তার সহযোগী ছিলেন। কোম্পানিটি গাণিতিক পরিভাষা ব্যবহার করে সিম্যুলেশন, ই-কমার্স ও গেম তৈরিসহ তাদের ওয়েবসাইটের কাজ করে থাকে। হরিজন ভেঞ্চার ও ফাউন্ডার ফান্ড নামে দু’টি প্রতিষ্ঠান এ কোম্পানির বিনিয়োগকারী। স্কাইপে ও কাজা ডেভেলপার জায়ান তালিন কোম্পানিটির প্রথম বিনিয়োগকারী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ছিল।
রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অধিকারী করে তুললে একসময় তারা মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারে এমন আশঙ্কা পুরনো। এখন নতুন আশঙ্কা এই যে, গুগল যদি সত্যিই রোবটকে না দিয়ে সার্চ প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পদ্ধতি ব্যবহার করে তবে তা হবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি।

 

স্টুয়ার্ট বাটারফিল্ড
ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্ল্যাক-এর প্রধান নির্বাহী

৩.৮ বিলিওনের টেক স্টার্টআপ স্ল্যাক সিইও স্টুয়ার্ট বাটারফিল্ড অফিসে দীর্ঘ সময় ধরে কাজে বিশ্বাসী নন। এ কারণেই স্ল্যাকের একটি অভ্যন্তরীণ মন্ত্র হলো, কঠোর পরিশ্রম করুন, দ্রুত ঘরে ফিরে যান। বাটারফিল্ড বলেন, আমার অভিজ্ঞতায় দেখা সবচেয়ে উৎপাদনশীল কর্মী তারা যারা বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বাড়ি ফিরে যান। এরা কাজের ব্যাপারে উচ্চমাত্রায় মনোযোগী হন। আর লোকে দিনে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি কঠোর মানসিক পরিশ্রম বা চিন্তাভাবনা করতে পারেন না।
তবে এখনকার কর্মপরিবেশে সারা দিনই উৎপাদনশীল থাকা অতটা সহজ নয়। যেখানে সারাক্ষণই বিভিন্ন সফটওয়্যারে অসংখ্য ফাইল চালাচালি হয় সেখানে নির্দিষ্ট কোনো ফাইলের সর্বশেষ সংস্করণটি কোথায় এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়াটা খুব সহজ নয়। স্ল্যাকের কর্মীসংখ্যা মাত্র ৩৫০। তা সত্ত্বেও কম্পানিটি ৮০টি ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে। বাটার ফিল্ড এই সমস্যার সমাধান করতে চান। তার বিশ্বাস স্ল্যাক থেকেই তিনি এ সমস্যার সমাধানে একটি উত্তর পেয়ে যাবেন। স্ল্যাক নামে কমিউনিকেশন অ্যাপটি মাত্র দ্ইু বছরের একটু বেশি সময়ের মধ্যে তার টেক স্টার্টআপকে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।
তার ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে একটি চ্যাট বট। এই প্রযুক্তি ইউজারদেরকে থার্ডপার্টি অ্যাপ কন্টেন্টে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। স্ল্যাকের মতো চ্যাট প্রোগ্রামের মধ্যেই এই সুযোগ করে দেয়া হয়। এবং অন্য কোনো অ্যাপ খুলে এটি দেখার প্রয়োজনও পড়ে না। ইউজাররা স্ল্যাক ব্যবহার করেই সেলসফোর্স থেকে তথ্য খুঁজে পেতে পারেন। অথবা ব্যয় প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেন। ভবিষ্যতে স্ল্যাক আরো স্মার্ট এবং আরো বুদ্ধিমান হবে। কারণ এটি আরো বেশি তথ্য জড়ো করছে এবং সবচেয়ে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করছে।

 

জন এবং প্যাট্রিক কলিসন
স্ট্রাইপ-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা

স্ট্রাইপ ইনভেস্টমেন্ট কম্পানির সহপ্রতিষ্ঠা জন এবং প্যাট্রিক কলিসন বিশ্বের কনিষ্ঠতম শতকোটিপতির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। গত সপ্তাহে এই অনলাইন অর্থপ্রদান কম্পানিটি নতুন রাউন্ডের একটি তহবিলের ঘোষণা দেয়। যার মূল্য ছিল ৯.২ বিলিয়ন ডলার। সানফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক কোম্পানিটির দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক কোলিসন এবং জন কোলিসন প্রত্যেকে এখন অন্তত ১.১ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ক্যাপিটাল জি থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার উত্তোলনের পর তাদের সম্পদের পরিমাণ বাড়ে। ক্যাপিটাল জি হলো গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট এবং জেনারেল ক্যাটলিস্ট এর বিনিয়োগ বিভাগ। সর্বশেষ বিনিয়োগের মাধ্যমে কোম্পানিটির মূল্য দ্বিগুণ হয়। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ বিলিয়ন ডলার।
সর্বশেষ এই রাউন্ডের আগে কোলিসন ভ্রাতৃদ্বয় স্ট্রাইপের ৩০ শতাংশের মালিক ছিলেন। ১৫০ মিলিয়নের নতুন এই বিনিয়োগের পর ফোর্বস-এর হিসেব মতে, ওই দ্ইু ভাই কম্পানিটির আরো অন্তত ১২ শতাংশের মালিকানা পেয়েছেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে স্ট্রাইপের প্রেসিডেন্ট জন কলিসন এখন বিশ্বের কনিষ্ঠতম স্বনির্মিত শতকোটিপতি। তিনি স্ন্যাপচ্যাট-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ইভান স্পিজেল-এর চেয়ে মাত্র দুই মাসের ছোট। যার বয়সও ২৬।
৩০-এর নিচে শতকোটিপতি হওয়াদের অন্য দুজন হলেন স্ট্রাইপের সিইও প্যাট্রিক কোলিসন (২৮) এবং স্ন্যাপচ্যাটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ববি মার্ফি (২৮)। স্ট্রাইপের কোলিসন ভ্রাতৃদ্বয় এখন আয়ারল্যান্ডের অন্য ছয়জনের পাশাপাশি বিশ্বের শতকোটিপতিদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। আর তারাই এখন আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে অল্পবয়সী শতকোটিপতি। যদিও তারা কাজের প্রয়োজনে সানফ্রান্সিসকোতে বসবাস করেন। স্ট্রাইপ কোলিসন ভ্রাতৃদ্বয়ের দ্বিতীয় কম্পানি। তাদের প্রথম কম্পানির নাম শুপ্পা, যা ২০০৮ সালে ই বে বিক্রেতাদের জন্য সফটওয়্যার তৈরিকারী কোম্পানি অক্টোমেটিক-এর সঙ্গে একীভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়াশোনা শেষ করার পর এই দুই ভাইয়ের এক ভাই জন কোলিসন ভর্তি হন হার্ভার্ডে আর অপর ভাই প্যাট্রিক কোলিসন ভর্তি হন এমআইটিতে। কিন্তু দু’জনেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়েন নিজেদের কোম্পানি স্ট্রাইপ স্থাপন করতে গিয়ে।
স্ল্যাক সম্প্রতি মাত্র দৈনিক ৩০ লাখ সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে। আর এর বেশির ভাগ কাস্টমারই ক্ষুদ্র দল বা ব্যবসা। আর এ কারণেই গুগলের মতো একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম গড়ে তুলতে পারেনি স্ল্যাক। কারণ এর কাছে যথেষ্ট তথ্য নেই। কিন্তু অসংখ্য লোক বাটারফিল্ডের দূরদর্শিতায় বিশ্বাস করেন। মাত্র গত দুই বছরের মধ্যেই তিনি ভিসি অর্থায়নের ৫৪০ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আর তার বিশ্বাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্ল্যাক সবাইকে আরো স্মার্ট এবং দক্ষ করে তুলছে।