ইসলামপন্থীদের সাথে আওয়ামী লীগের সংযোগ

Apr 25, 2017 09:36 am
কওমি আলেমদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

 

আলফাজ আনাম

 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এমন ঘটনা আড়াল করতে আরেকটি ঘটনার জন্ম দিতে পারছে। ফলে আলোচিত বা সমালোচিত যেকোনো বিষয় থেকে মানুষের নজর সরে যায়। ফলে বিতর্কিত ইস্যুগুলো দ্রুত চাপা পড়ে যাচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও গণমাধ্যম কোনো একটি ইস্যুর ওপর আর স্থির থাকতে পারছে না।
সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে সব চেয়ে আলোচনার বিষয় ছিল তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা ও ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীকে শূন্য হাতে ভারত থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। দিল্লি সেই পুরনো কার্ডটি খেলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজি না হওয়ায় তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করা যাচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজি করানোর দায়িত্ব নয়াদিল্লির, বাংলাদেশের নয়। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। কিন্তু বাংলাদেশকে এই অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দোহাই দিয়ে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে কোনো সুরাহা না হলেও ভারতের কাক্সিক্ষত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অনেকগুলো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব সমঝোতা স্মারকে কী আছে তা এখনো কোনো পক্ষ থেকে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন মহল থেকে এসব সমঝোতা স্মারক প্রকাশের দাবি জানানো হয়। এমনকি সমঝোতা স্মারকের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দেশের মানুষের ক্ষোভ, হতাশা ও না পাওয়ার বেদনা আছে। ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে একতরফা বন্ধুত্ব বা ভালোবাসা দেখিয়ে যাচ্ছে, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর এই দিকটি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে নানা মহল থেকে যখন সমালোচনা হচ্ছে ঠিক তখনই গণভবনে কওমি মাদরাসার আলেমদের সাথে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলেন। কওমি আলেমদের বড় অংশ আলেমদের সামাজিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট। যার নেতৃত্বে আছেন হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী, যিনি হেফাজতে ইসলামেরও আমির।


কওমি আলেমদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আবেগপ্রবণ ভাষায় তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার সাথে সহমত পোষণ করেন। এরমধ্যে কওমি মাদরাসার সর্Ÿোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের ঘোষণা দেয়া হয়। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এই স্বীকৃতি এক দফা দেয়া হয়েছিল। আলেমদের আরেকটি দাবি ছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণ। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই মূর্তি স্থাপনের সমালোচনা করেন এবং এই মূর্তি অপসারণের বিষয়টি তার ওপর ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। কওমি আলেমদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে গণমাধ্যমে যে আলোচনা ও পর্যালোচনা হচ্ছিল তা উধাও হয়ে যায়।
আলোচনায় চলে আসে কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি ও হেফাজতে ইসলামের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সাম্ভাব্য আঁতাতের নানামুখী পর্যালোচনা।

এরমধ্যে গণমাধ্যমে সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীদের হৃদয়বিদারক আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের মতো প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল কিভাবে হেফাজতে ইসলামের সাথে বৈঠকে বসলো তা নিয়ে তাদের বেদনার শেষ নেই। উগ্রপন্থী সেক্যুলারদের ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে। আবার অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যে কওমি আলেমরা মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে যদি সরকারি চাকরি বা বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেন তাহলে তো দেশের অবস্থা কী হবে? সব জায়গায় যদি এই হুজুরেরা বসে পড়েন তাহলে দেশ পুরো অন্ধকার জগতে ফিরে যাবে। কওমি আলেমরা যতই বলেন তারা কোনো চাকরি বা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য স্বীকৃতি চান না। তারাও যে লেখাপড়া করেন এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব ও মর্যাদা আছে তা শুধু চাইছেন। অন্য কিছু নয়, তারা শুধু দক্ষ আলেম বানাতে চান। কিন্তু কে শোনে কার কথা? হেফাজত আতঙ্কে উগ্রপন্থী সেক্যুলারেরা অস্থির।


হেফাজতের আমিরকে সরকারের মন্ত্রীরা এত দিন তেঁতুল হুজুর বলে ব্যঙ্গ বিদ্রপ করতেন। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসেন এবং তাজিমের সাথে আলোচনার দৃশ্য টেলিভিশনে প্রচারের পর তাদের আক্কেল গুড়–ম। যে মন্ত্রীরা কওমি মাদরাসা জঙ্গি প্রজননকেন্দ্র বলে এগুলো বন্ধ কিংবা নিদেনপক্ষে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলছিলেন, তারা এখন কওমি মাদরাসার আলেমরা জঙ্গি নয় বরং দেশের চরিত্রবান নাগরিক বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন।


শাহবাগকেন্দ্রিক ব্লগারদের নবী রাসূলকে নিয়ে অবমাননাকর লেখার প্রতিবাদে এবং ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সমবেত হয়েছিল। পুলিশি অভিযান ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাতের আঁধারে সমাবেশ ভণ্ডুল করে দেয়া হয়েছিল। এই অভিযানে কত হেফাজতের কর্মী মারা গেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। তবে কওমি আলেমদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সনদের স্বীকৃতি এবং খানাপিনা যাই হোক না কেন মতিঝিলে সে দিন রাতে পুলিশের অভিযান, আহতদের আহাজারি, সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ, গুলির শব্দে দিগি¦দিক ছুটে চলা মাদরাসার তরুণ-কিশোর ছাত্রদের আর্তচিৎকার ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তারা যে সহজে ভুলবে না তা নিশ্চিত করে বলা যায়। এই সমাবেশের পর সরকারের পক্ষ থেকে হেফাজতের বিরুদ্ধে মানুষ হত্যা, কুরআন পোড়ানোসহ বহু অভিযোগ আনা হয়েছিল। হেফাজত এসব অভিযোগ শুরু থেকে অস্বীকার করে আসছে। সেক্যুলারদের কাছে হেফাজতের এই সমাবেশ ছিল ইসলামপন্থীদের ঘায়েল করার একটি বড় অস্ত্র। সেই অস্ত্রটির কার্যকারিতা এখন আর থাকছে না, বরং এই অস্ত্র ব্যবহার করতে গেলে তা আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত হানছে।


উগ্রপন্থী সেক্যুলারদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়, আওয়ামী লীগ অতীতে কখনো ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার টেবিলে বসেনি। এই প্রথম যেনো আওয়ামী লীগের সাথে হেফাজত বা কওমি আলেমদের মোলাকাত হচ্ছে! খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০০৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত পাঁচদফা নির্বাচনী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ নির্বাচনী সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিলেন আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল এবং খেলাফত মজলিসের পক্ষে মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী। এই চুক্তির পর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে খেলাফত মজলিস আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ‘মহাজোটের’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পাঁচদফা নির্বাচনী চুক্তিতে বলা হয়


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই মর্মে অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছে যে, নি¤œবর্ণিত পাঁচটি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে আসন্ন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করবে এবং মহান আল্লাহ তায়ালা বিজয় দান করলে এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে
১. পবিত্র কুরআন সুন্নাহ ও শরিয়তবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না।
২. কওমি মাদরাসার সনদের সরকারি স্বীকৃতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
৩. নি¤œবর্ণিত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে :
ক. হজরত মুহাম্মদ সা: সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী।
খ. সনদপ্রাপ্ত হক্কানি আলেমরা ফতোয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন। সনদবিহীন কোনো ব্যক্তি ফতোয়া প্রদান করতে পারবেন না।
গ. নবী-রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা ও কুৎসা রটনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।’


আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়েছিল খেলাফত মজলিসের সাথে এই চুক্তির আর কোনো কার্যকারিতা নেই। আমরা যদি সম্প্রতি কওমি আলেমদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতির সাথে এই চুক্তি পর্যালোচনা করি তাহলে এসব দাবিদাওয়া মেনে নেয়ার ক্ষেত্রেও এই চুক্তির প্রভাব লক্ষ করা যায়।


খেলাফত মজলিসের সাথে এই চুক্তির আগে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী এক সাথে রাজপথে আন্দোলন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের ব্রেইন চাইল্ড তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগের বেপরোয়া আন্দোলনের মুখে তৎকালীন বিএনপি সরকারকে সে দাবি মেনে নিতে হয়েছিল। স্বৈরাচার পতনের পর দেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছিল। রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বিএনপি ফিরে গিয়েছিল।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সংসদ থেকে তখন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী একযোগে পদত্যাগ করেছিল। বাংলাদেশে সংসদ বর্জন ও সংসদীয় রাজনীতির মুখ থুবড়ে পড়ার ইতিহাস তখন থেকে শুরু। অবশ্য বিএনপির ভেতরে বাম এবং উগ্র সেক্যুলারদের নানামুখী তৎপরতা আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের সখ্যতার ভিত্তি তৈরি করেছিল। জামায়াতকে সাইজ করতে বিএনপির এসব নেতার বড় একটি অংশ পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সংস্কারপন্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।


রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের এ ধরনের সম্পর্কের ইতিহাস নতুন নয়। সেক্যুলারবাদীদের আহাজারি মাত্র কয়েক বছরের আগের ইতিহাস ঢেকে রাখার প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রশ্ন হলো কেন আওয়ামী লীগ ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এ ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলে? আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ উল আলম লেনিন সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে কওমি মাদরাসার আলেমদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠককে দেখছেন একটি ট্যাকটিকস বা কৌশল হিসেবে। তার মতে কওমি আলেমদের দূরে ঠেলে না দিয়ে ধীরে ধীরে একটি সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
অবশ্য অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থী দলগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক তৈরির প্রাথমিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠক হয়েছে, যাতে বিএনপির ভোটব্যাংকে বিভাজন সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।

২০০৬ সালে খেলাফত মজলিসের সাথে আওয়ামী লীগ একই লক্ষ নিয়ে চুক্তি করেছিল। যদিও ২০০৭ সালে নির্বাচন না হওয়ায় এই চুক্তি ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলত তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে যে লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইসলামপন্থীদের সাথে আওয়ামী লীগ কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে উঠুক না কেন, তাতে ইসলামপন্থীদের লাভবান হওয়ার খুব বেশি সম্ভাবনা নেই। জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক জামায়াতের জন্য সুখকর তো হয়ইনি, বরং বলা যায় অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে নীতিনির্ধারণে বাম ও উগ্রপন্থী সেক্যুলাররা প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।


অপর দিকে আওয়ামী লীগের জন্য সমস্যা হচ্ছে ভোটের রাজনীতির জন্য ইসলামপন্থীদের সাথে কোনো না কোনোভাবে হাত মেলানো ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। শেখ হাসিনা জানেন, গণমাধ্যমে হাজির হওয়া আদর্শবিচ্যুত বাম আর উগ্রপন্থী সেক্যুলারদের ভোটের রাজনীতিতে কানাকড়ির দামও নেই। টেলিভিশনের পর্দায় তারা যতটা আওয়াজ তোলেন তাদের বাচালতা সাধারণ মানুষের মনকে আরো বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ইসলামপন্থীদের পথ অনুসরণ করতে হয়েছে। ২০০৬ সালে চুক্তি করতে হয়েছিল। আগামীতে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে ইসলামপন্থীদের সাথে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্যুলারেরা যে বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন না, শাহবাগ ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো অ্যাসেট নয় বরং শাপলা চত্বর হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের এই কৌশলগত সম্পর্কের মাত্রা ও পরিণতি এ দেশের ইসলামপন্থীরা কতটা উপলব্ধি করতে পারবেন তা অবশ্য দেখার বিষয়।