টাকা পাচার

May 21, 2017 09:46 am
দেশ থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়


সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু


প্রতি বছর সরকারের সামগ্রিক ব্যয়কে সাদামাটা ভাষায় বাজেট বলা যেতে পারে। প্রতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এই বাজেট দিয়ে থাকেন। তিনি গত বছর জুনে চলতি অর্থবছরের একটি বাজেট দিয়েছেন। এই বাজেটের আকার হচ্ছে তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে যে বাজেটটি দেয়া হয় তা অর্থ সংগ্রহ করা হয় জনগণের ওপর কর আরোপ করে এবং কিছু বিদেশী সহায়তা বা ঋণ নিয়ে।

এখন যদি বলা হয়, আগামী দুই অর্থবছরের বাজেট দেয়া হবে জনগণের ওপর কোনো কর আরোপ না করেই তা কি সবাইকে বিশ্বাস করানো যাবে! না, বিশ্বাস করানো যাবে না। এই লেখা যারা পড়ছেন তারা হয়তো ভাবতে শুরু করেছেন তা কী করে সম্ভব! সরকার ব্যয় করার অর্থ কোথা থেকে পাবে? পাবে অর্থ, যদি দেশ থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয় তা ঠেকাতে পারে। এবার দেখুন কী পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।


শুধু ২০১৪ সালে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে ৭৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আর ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী পরপর দুই বছরের বাজেট অল্প পরিমাণ করারোপ করেই দিয়ে দিতে পারেন।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)। বিশ্বের অর্থ পাচার নিয়েই মূলত সংস্থাটি কাজ করে থাকে। গত ১ মে সংস্থাটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল এই ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৫১৫ কোটি ডলার বা ৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে, আরেক ধরনের অর্থ পাচার নিয়ে কিছু আলোচনা করা যায়। আর সেটা হলো প্রতি বছর দেশ থেকে কিভাবে ‘বৈধ’ পথে অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।


বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০০ কোটি ডলার বিদেশ চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। কিভাবে যাচ্ছে এই অর্থ? বাংলাদেশে দুই লাখেরও বেশি বিদেশী কাজ করছে, যারা প্রতি বছর এ দেশ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার তাদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই অবাক করা তথ্যটি কিন্তু কারো মনগড়া নয়, স্বয়ং সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যটি দেয়া হয়েছে। এটি প্রদান করেছে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হিসেবে বিবেচিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘দক্ষতা উন্নয়ন : উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক বাজেট পুস্তিকা। তাহলে অবৈধ ও বৈধ পথে প্রতি বছর দেশ থেকে বিদেশ চলে যাচ্ছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি পরিমাণ অর্থ। এখানে বলে রাখা ভালো, বৈধভাবে অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার কথা বলা হলেও এখানে কর্মরত বিদেশীদের মধ্যে বেশির ভাগই অনেকটা অবৈধভাবে অবস্থান করছে। তাদের কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অনেকেই তা নবায়ন করেনি।


বিশ্বব্যাপী মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাজ করছে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ)। তাদের সদস্য হচ্ছে ৭৪টি দেশ ও সংস্থা। এফএটিএফের সহযোগী সংস্থা হিসেবে এগমন্ট গ্রুপ এসব আইনের কাঠামো বাস্তবায়ন করে। তাদের সদস্য হচ্ছে ১৩২টি দেশ। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগীয় অঞ্চলে এগুলোর তদারকি করে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি)। তাদের সদস্যদেশ হচ্ছে ৪১টি। এসব সংস্থার সবগুলোর সদস্য বাংলাদেশ। তার পরও বাংলাদেশ থেকে মুদ্রা পাচার প্রতি বছর বেড়েই চলেছে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থ পাচারের শীর্ষ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছরই অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়ে যায়। উন্নয়নশীল দেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফআই’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানটি আট বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশ থেকে অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। এবারের প্রতিবেদনে রয়েছে ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল সময় পর্যন্ত তথ্য। গত ১ মে প্রতিবেদনটির সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। জিএফআইয়ের তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৯১১ কোটি ডলার বা প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার হয়েছে।

পাচার হওয়া এ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। আর মেট্রোরেল করা যাবে তিনটি। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের গড়ে ১০ শতাংশের বেশি অর্থ পাচার হয়।


জিএফআইয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, তিনভাবে একটি দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়। এগুলো হলো সরাসরি পাচার, বাণিজ্যিক লেনদেনে মিথ্যা ঘোষণা বা ভুয়া তথ্য দেয়া এবং লেনদেন ভারসাম্যের ত্রুটি কাজে লাগিয়ে অর্থ পাচার। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের ৯ থেকে ১৩ শতাংশ অর্থ পাচার হয়েছে সরাসরি পদ্ধতিতে। আবার মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হয়েছে ৭ থেকে ১১ শতাংশ অর্থ। আর লেনদেন ভারসাম্যের ত্রুটির কারণে মোট লেনদেনের ২ শতাংশ পাচার হয়েছে।


জিএফআইয়ের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালে ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের ১ থেকে ৪ শতাংশ অর্থ পাচার হয়েছে। অর্থাৎ এসব দেশ থেকে অর্থ পাচারের শতকরা হার বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। তবে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, মালদ্বীপের মতো দেশে অর্থ পাচারের শতকরা হার বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। তবে এসব দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম।

এসব দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থও তাই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম।
২০১৪ সালে মিয়ানমারের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৫২ কোটি ডলার। এই লেনদেনের সর্বনি¤œ ৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩৯ শতাংশ অর্থ দেশটি থেকে পাচার হয়েছে। মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশের মোট লেনদেনের পরিমাণ আড়াই গুণের বেশি। মিয়ানমার থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ পাচার হলেও তা বাংলাদেশের ধারেকাছে নেই। আর অর্থনীতির বিশালতার বিবেচনায় ভারত থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।


গবেষণার তথ্য অনুসারে, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৬১৪ কোটি ডলার। এই এক দশকে বাংলাদেশ থেকে ১২ থেকে ১৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি পাচার হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এ সময়ে পাচার হয়েছে ৭ থেকে ১২ শতাংশ। আর লেনদেন ভারসাম্যের ত্রুটির কারণে পাচার হয়েছে মোট লেনদেনের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ অর্থ।
জিএফআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৯টি দেশের অবৈধ অর্থপ্রবাহের তথ্য দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন তথ্য অনুযায়ী এসব দেশ থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। মূলত আর্থিক খাতে স্বচ্ছতার অভাবেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থ পাচার বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

অর্থ পাচার হয়, অর্থ আবার পাচার হয়ে দেশেও আসে!
বাংলাদেশ থেকে শুধু অর্থ পাচারই হয় না, কিছু অর্থ আবার পাচার হয়ে এদেশে চলেও আসে। জিএফআই প্রতিবেদনে অন্তত তাই বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে সাত হাজার ৫১৫ কোটি ডলার অবৈধ পথে বাংলাদেশের বাইরে চলে গেছে। আর এ ১০ বছরে পাচার হয়ে এসেছে পাঁচ হাজার ৫২৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়ে এসেছে ২০১৪ সালে। এর আগে ২০১১ সালে এক হাজার ৫০ কোটি ডলার আসে। আর সে বছর পাচার হয়েছিল ৭১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এ ছাড়া ২০১২ সালে ৭২১ কোটি ৮০ লাখ ও ২০১০ সালে ৬১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাচার হয়ে আসে। ওই দু’বছর অর্থ পাচারের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৮৭৩ কোটি ৬০ লাখ ও ৯৪৭ কোটি ডলার। তবে এর আগে (২০০৫-০৯) পাচার করা অর্থ দেশে আসার পরিমাণ ছিল আড়াই শ’ কোটি ডলারের কম। যদিও ওই সময় বছরে কমপক্ষে ৪০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাচারের পাশাপাশি ফেরত আসা অর্থের পরিমাণও বেড়েছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়ে যায়। তার কারণ একটি শ্রেণি ভাবতে থাকে তাদের হাতে থাকা অর্থ নিরাপদ নয়। এখানে একটি অনিশ্চয়তা কাজ করে, ফলে তারা এসব অর্থ বিদেশ পাঠিয়ে দেয়। ২০০৯ সালে নির্বাচনের সময় দেখা গেছে দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়ে যায়।

 

বৈধভাবে বিদেশ চলে যাচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা
আগে বলা হয়েছে, কর্মরত বিদেশীরা প্রতি বছর ৪০ হাজার কোটি টাকা তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৭০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে এবং এরা প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠায়। এর বিপরীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ বিদেশী কাজ করে। বেতনভাতা বাবদ এরা প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি ডলার নিয়ে যায়।


দক্ষতার ঘাটতির কারণে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের আয় অন্যান্য দেশের প্রবাসী শ্রমিকের তুলনায় কম। প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের মধ্যে স্বল্পদক্ষ ৫২ শতাংশ, ৩১ শতাংশ দক্ষ, ১৪ শতাংশ আধা দক্ষ ও মাত্র ২ শতাংশ পেশাজীবী।
বাংলাদেশী শ্রমিকদের উচ্চতর পর্যায়ে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হচ্ছে শিল্পখাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞের অভাব, কলকারখানাগুলোতে দক্ষ শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকের অভাব, নতুন নতুন যন্ত্রপাতি ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা না থাকা, দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানে কারখানাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও উদ্যোগের অভাব, কর্মরত বিদেশী বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণে আগ্রহের অভাব। এ ছাড়া শিল্পকারখানার মালিকেরাও বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগে নতুন প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন।


দেশের শিল্পকারখানায় বিদেশী শ্রমিকনির্ভরতা কমিয়ে আনতে মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের সুপারভাইজার ও ব্যবস্থাপকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বাপোর করে পুস্তিকায় আরো বলা হয়, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাপর্যায়ে দক্ষতার ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বিশেষত টেক্সটাইল ও তৈরী পোশাক শিল্পে প্রচুরসংখ্যক বিদেশী ব্যবস্থাপক ও কর্মী নিয়োজিত রয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে যে দুই লাখ বিদেশী শ্রমিক বা ব্যক্তি কর্মরত রয়েছে তাদের বেশির ভাগই ভারতের। এদের আবার বেশির ভাগই কাজ করছে তৈরী পোশাক খাতে। এদের আবার বেশির ভাগেরই ওয়ার্ক পারমিট শেষ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে ৪০ হাজার কোটি টাকার বিদেশী চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা যে উপরিভাগে রয়েছে তা নির্দ্বিধায়ই বলা যায়। তবে ভারতীয়দের পাশাপাশি এখানে পাকিস্তানি ও শ্রীলঙ্কার লোকজনও কাজ করছে। আমাদের মধ্যমপর্যায়ে শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞ এর অভাব রয়েছে বলে বাইরের দেশের মানুষ এখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। আর এর ফলে প্রতি বছর দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।
তাহলে বৈধ ও অবৈধভাবে দেশ থেকে প্রতি বছর চলে যাচ্ছে লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ। এই পাচার কিভাবে ঠেকানো সম্ভব তা কৌশল নির্ধারণের একসময় এসে গেছে। বর্তমান সরকার সেটা কতখানি করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থেকেই যায়।