সৌদি নীলনকশায় সার্বভৌমত্ব হারাচ্ছে কাতার

Jun 07, 2017 08:25 am
 সার্বভৌমত্ব হারাতে বসেছে উপসাগরীয় দেশ কাতার


আলফাজ আনাম

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের কারণে সার্বভৌমত্ব হারাতে বসেছে উপসাগরীয় দেশ কাতার। আরব অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। পরে এসব দেশের সাথে যোগ দেয় ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার, খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ার একাংশের সরকার ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপ। মূলত কাতারকে ‘শাস্তি’ দেয়ার জন্য দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এসব দেশ। বন্ধ করে দেয়া হয় স্থল, জল ও আকাশসীমা।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) অপর দুই দেশ কুয়েত ও ওমান কিছুটা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে। সঙ্কট নিরসনে তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ সৌদি বাদশাহর সাথে সাক্ষাৎ করলেও তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি পদক্ষেপের সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইট বার্তার মধ্য দিয়ে। যিনি নিজেই কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপে তার কৃতিত্ব দাবি করেছেন। ফলে কাতারের ক্ষমতাসীন আমিরের পতন ঘটতে পারে অথবা সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর দাবি মেনে নিয়ে দুর্বল অবস্থান নিয়ে টিকে থাকতে হবে। এমনকি দেশটিতে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপও করতে পারে।


সঙ্কটের শুরু একটি খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে। ২৫ মে কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্সিতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। যেখানে আরব দেশগুলোর ইরানের নীতির সমালোচনা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না বলে মন্তব্য করা হয়। এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মালিকানাধীন আল আরাবিয়া টেলিভিশন ও স্কাই নিউজ আরাবিয়া কাতারের আমিরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। ২০ মিনিটের মধ্যে সৌদি-আমিরাত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে কাতারের আমিরের এই বক্তব্যের নানামুখী বিশ্লেষণ, এর প্রভাব এবং বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য প্রকাশ করতে থাকে।

এর পরপরই কাতারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাতারের আমিরের এই বক্তব্য তার নয় এবং রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার সাইট হ্যাক করে এই বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু কাতারের এই অবস্থানে সাড়া না দিয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মূলত কাতারের ওপর এক ধরনের অবরোধ আরোপ করা হয়। কাতার এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অন্যায্য দাবি করছে; একই সাথে আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট নিরসনের আহ্বান জানাচ্ছে। অপর দিকে, সৌদি আরব বলছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা হয়েছে। সৌদি আরব কাতারের বিরুদ্ধে ইরানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা এবং ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সহায়তার দাবি করছে। অথচ ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি জোটের অন্যতম শরিক দেশ কাতার। দেশটির সৈন্য ও বিমানবাহিনী এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। অবশ্য সম্পর্ক ছিন্নের পর কাতারের যুদ্ধবিমান ও সৈন্যদের ফেরত পাঠানো হয়।


সৌদি আরব খুব পরিকল্পিতভাবে কাতারের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। যার অন্যতম লক্ষ হচ্ছে কাতারের শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন আনা। সৌদি আরব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার পর কাতারের ৮৫ শতাংশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। ৯০ শতাংশ খাদ্য আমদানির ৪০ শতাংশই আসে সৌদি আরব থেকে। অন্য কোনো দেশের সাথে স্থলসীমান্ত নেই বলে আকাশ বা জলপথে আমদানি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এর ফলে কাতারের বাজারে যে খাদ্য ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। ইয়েমেন, সিরিয়া বা ইরাকের মতো ধ্বংসের প্রান্তে কাতারকে নিয়ে যেতে পারলে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন সম্ভব হবে না।

কাতারের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশই বিদেশী নাগরিক। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে তারাও নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগে কাতারে ক্ষমতার পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এমন আকাক্সক্ষা সৌদি আরবের মধ্যে রয়েছে। অথবা সৌদি আরবের অনুগত রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে হবে।


লক্ষণীয় দিক হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরের দুই সপ্তাহ না যেতেই কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের এই ঘোষণা দেয় উপসাগরীয় দেশগুলো। এই সম্মেলনের পর কাতারকে চাপ প্রয়োগের পথ খুঁজতে থাকে সৌদি আরব। সৌদি ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং মিসরের সেনাশাসক আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি ঐক্যবদ্ধভাবে কাতারকে চাপে ফেলার কৌশল গ্রহণ করেন। এরপর কাতারের আমিরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আরব গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার মুখে এক সপ্তাহ না যেতেই সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ট্রাম্পও টুইট বার্তায় কাতার অবরোধ আরোপে তার কৃতিত্ব দাবি করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইটারে লেখেন ‘মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় আমি বলেছিলাম সন্ত্রাসী অর্থায়ন ঠেকাতে হবে, এটাকে কোনোভাবেই বাড়তে দেয়া যাবে না। দেখেন নেতারা কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন।’ এরপর আরেকটি টুইট বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘সৌদি আরবসহ ৫০টি দেশ যে বলছে তারা চরমপন্থা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে, তা দেখে খুব ভালো লাগছে। কাতারকে উদ্ধৃত করে তারা তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ শেষ করার লক্ষ্যে সম্ভবত এটাই শুভসূচনা’। ট্রাম্প সৌদি আরবে দেয়া তার ভাষণে আরব বিশ্বে সবচেয়ে পুরনো ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন।


এর আগে ওয়াশিংটনে সৌদি লবিস্ট গ্রুপ সৌদি-আমেরিকান পাবলিক রিলেশন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রেসিডেন্ট সালমান আল আনসারি এক টুইট বার্তায় কাতারের আমিরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সাথে সম্পর্ক অব্যাহত ও দুই পবিত্র মসজিদের অভিভাবকের সাথে অসদাচরণ করলে আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিও তাই করেছিলেন এবং তিনি পদত্যাগ করার পর কারারুদ্ধ হয়ে আছেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবের কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই জানিয়েছেন, হামাস ও মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেয়া বন্ধসহ কিছু পদক্ষেপ না নিলে কাতারের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা সম্ভব নয়। কার্যত হামাস ও মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিঃশ্বেস করতে ইসরাইল, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলে একসাথে কাজ করছে। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের মূল্য দিতে হচ্ছে কাতারকে।


উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে আলজাজিরা ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল উতাইবার বেশ কিছু হ্যাক হওয়া ইমেইল প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ওবামা প্রশাসনের কাছে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেয়ার জন্য কাতারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে আমিরাত। এমনকি কাতার থেকে মার্কিন বিমান ঘাঁটি আরব আমিরাতে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব মেইলে দেখা যাচ্ছে, মিসরের সিসির সামরিক অভ্যুত্থানে সৌদি-আমিরাত যেমন সহায়তা দিয়েছে; তেমনি তুরস্কে এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানেও সমর্থন দিয়েছে। উতাইবা ইসরাইলপন্থী থিংকট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এই থিংকট্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ইসরাইলের সমর্থক কোটিপতি শেডেন ডেলসন যিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর খুবই আস্থাভাজন ব্যক্তি। এই থিংকট্যাংকটির মাধ্যমে আরব আমিরাত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা জেরেড কুশনারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত।
কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সৌদি-মিসর ও আমিরাতের এই উদ্যোগে সমর্থন ও সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইসরাইল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগদর লিবারম্যান বলেছেন, নিঃসন্দেহে এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ইসরাইল মূলত সৌদি-আমিরাতি ভাষায় কাতারকে আক্রমণ করছে।


কাতারের সাথে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে কয়েক বছর ধরে। আরব বসন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে আরব বিশে^ বৃহত্তম ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে কাতার। একই সাথে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলন হামাসের নেতাদের আশ্রয় দিয়েছে দেশটি। গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কাতার বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। অপর দিকে, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো মুসলিম ব্রাদারহুডের উত্থানে ভীত হয়ে পড়ে। মিসরের মুরসি সরকারকে উৎখাতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। একই সাথে ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকে। কাতারের ওপর চাপ দেয়া হয় মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাস নেতাদের বহিষ্কার করতে। কিন্তু কাতার এ ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। অপর দিকে, আলজাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও মিসরে মোবারকবিরোধী আন্দোলনে আলজাজিরার ভূমিকার কারণে চ্যানেলটি বন্ধের দাবি করে আসছে। আলজাজিারার একাধিক সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিয়েছে মিসর। কাতারের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ অবরোধ আরোপের এই প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।


ট্রাম্পের সহায়তায় সৌদি আরবের উদ্যোগে কাতারে রেজিম চেঞ্জের প্রচেষ্টা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যর রাজনীতির গতি বদলে যেতে পারে। এর মাধ্যমে আরব বিশ্বে ভিন্নমত ও গণতন্ত্রের যে কোনো সম্ভাবনা নেই তা আরো স্পষ্ট হবে। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী সশস্ত্র পন্থায় ক্ষমতা সংহত করার চেষ্টা করবে। এমনকি ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো সশস্ত্র গ্রুপের উত্থান ঘটতে পারে। সৌদি আরব কিংবা উপসাগরীয় দেশগুলোতেও সশস্ত্র আন্দোলন দানা বাঁধতে পারে। আর যদি কাতারের আমির কোনোভাবে টিকে যান তাহলেও পরিস্থিতি বদলে যাবে। ইতোমধ্যে ইরান দেশটিতে খাদ্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং ইরানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ট্রাম্পের টুইট বার্তা সৌদি-আমিরাত ও মিসরের শাসকদের আরো উৎসাহিত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে কাতার বাধ্য হয়ে ইরানমুখী হতে পারে। ইরান ও কাতারের যৌথ গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। দুদেশ এই গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনে ইতোমধ্যে একমত হয়েছে। এ ছাড়া তুরস্কের সাথে কাতারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় হাজারখানেক সৈন্য কাতারে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে কাতারকে সমর্থন করেছেন।


কাতারকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন আরো বাড়তে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। কাতার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এলএনজি সরবরাহ করা দেশ। কাতার থেকে জাপান, চীন ও ভারত গ্যাস আমদানি করে। এসব দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মিডল ইস্ট আইয়ের সম্পাদক ডেভিড হার্স্ট আলজাজিরার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের সিনিয়র নেতাদের কাতার থেকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে একটি আপসের চেষ্টা হতে পারে। কাতারে যেকোনো ধরনের অস্থিরতার প্রভাব ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও পড়বে। কাতারের বিনিয়োগের বড় জায়গা হলো ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। আন্তর্জাতিক গ্যাস কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যের সবচেয়ে লাভজনক জায়গা হলো কাতার। ব্রেক্সিটের পর কাতার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেনে দেশটি পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। কাতারের আল উদেইব বিমান ঘাঁটিতে ১০ হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছে। হয়তো তাদের নতুন জায়গা খুঁজতে হবে।