বিদেশি ক্রিকেটাররা সাকিবের কাছে যা জানতে চায়

Jul 31, 2017 03:54 pm
অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান


বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে অন্যদেশের ক্রিকেটাররা নানা বিষয় জানতে আগ্রহী। কী জানতে চায়? তার জবাব দিলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বললেন দল হিসেবে আমরা কিভাবে এত ভালো করছি, সে বিষয়েও প্রশ্ন করে।


অস্ট্রেলিয়ার সিরিজের পরই সাউথ আফ্রিকায় পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। দেশের বাইরে এটা হবে বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া না এলে সাউথ আফ্রিকা সফর কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া না এলে আমাদের সরাসরি সাউথ আফ্রিকায় গিয়ে খেলতে হবে। যেটা আমাদের জন্য একটু কঠিন হয়ে যাবে। সাউথ আফ্রিকা সফরে ভালো করার জন্য অস্ট্রেলিয়া সিরিজ হওয়াটা জরুরি।’


অন্য সবার মতো অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও তাকিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দিকে। মিরপুরে গতকাল কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের সাথে উঠে আসে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ প্রসঙ্গও। সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আশা করি অস্ট্রেলিয়া আসবে। বড় একটা বিরতি গেল। এ সিরিজ দিয়েই মওসুম শুরু হবে। আশা করি, ভালো একটা সিরিজ হবে।’


এখন পর্যন্ত ৪৯টি টেস্ট খেলেছেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অর্ধশত টেস্টের মাইলফলক সাকিবের সামনে। তবে এটা নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না সাকিব; বরং সিরিজটার দিকেই তার চোখ। সাকিব বলেন, ‘কিছু দিন ধরে আমরা অনেক টেস্ট খেলেছি। নইলে ৩০টার মতো টেস্ট থাকত আমার। আসলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজটা হওয়া দরকার।আশা করি, অস্ট্রেলিয়া আসবে এবং ভালো একটা সিরিজ হবে।’


‘বাংলাদেশ সম্পর্কে ক্রিকেট খেলুড়ে বড় দলগুলোর মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন তো অন্য রকম কথাবার্তা হয়। আমাদের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানতে চায় তারা। বাংলাদেশকে নিয়ে বিদেশী দলগুলোর আগ্রহ জন্মেছে। দল হিসেবে আমরা কিভাবে এত ভালো করছি, সে বিষয়েও প্রশ্ন করে। আমরাও বড় দলের খেলোয়াড়দের মতো কথা বলতে পারি। চিন্তা করি যে, এখন এভাবে কথা বলা যায়।’
সিপিএল খেলতে যাওয়ার আগে নিজেদের শক্তিমত্তা এবং উন্নতির ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া বাংলাদেশ সম্বন্ধে এমন মন্তব্য করেন তিন ফরম্যাটেই পুরো বিশ্বে শীর্ষে থাকা সাকিব আল হাসান।


বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে তো নিয়মিতই বড়দের হারিয়ে দেয়। সিরিজ জিতে নেয়। টেস্টেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেতে শুরু করেছে। টি-২০ তাই। বাংলাদেশ সম্পর্কে আগে যে মানসিকতা বিরাজ করত এখন সেই মানসিকতার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশকে সমীহের চোখেই দেখে তারা।


ক্রিকেটের বিশ্বব্যাপী পতাকাবাহী সাকিব আল হাসান মনে করেন, বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে এই যে মানসিকতার পরিবর্তন, তাতে তাদের সম্মান বেড়েছে। দেশের সম্মান বেড়েছে। এখন তারা গলা উঁচু করে অন্যদের সাথে কথা বলতে পারেন। চলতে পারেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।


সাকিবের সাথে এবার সিপিএলে খেলতে গেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি খেলবেন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে। সাকিব খেলবেন জ্যামাইকা তালওয়াসের হয়ে।তিনি মনে করেন, সামনে অস্ট্রেলিয়া সিরিজটা না থাকলে হয়তো এবার আরো কয়েকজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার সিপিএলে গিয়ে খেলতে পারত।


‘আমি তো শিওর যে, এ বছর যদি পুরো টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ থাকত, তাহলে আরো দু-একজন যেতে পারত। দু-একজনের নামও বলাবলি হচ্ছিল। কিন্তু আমাদের তো খেলা আছে। টাইম ফিক্সড থাকে না। অন্য দলগুলোর জন্য আমাদের নিতে ঝামেলা হয়ে যায়। কারণ পরে যদি বলা হয়, টিম আসবে আমাদের ফিরতে হবে। তারাওতো তাদের দিকটা দেখতে হবে।’


বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের খেতাব নিয়ে সারা দুনিয়াকে কাঁপান। সবুজ শ্যামলিমায় আচ্ছাদিত বাংলাদেশকে তুলে ধরেন বিশ্বক্রিকেটের ২২ গজের পিচে। এই ক্রিকেটারের নাম সাকিব আল হাসান। তাকে নিয়ে গর্বের কোনো শেষ নেই। তিনি যা করেন, তা একেকটি ইতিহাস। তার খেলার দিকে তাকিয়ে থাকেন সবাই।


বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার কী করবেন, তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। বাংলাদেশের নবীন ক্রিকেটারেরা আদর্শ হিসেবে বেছে নেন সাকিবকে। তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন। তাকে চেনেন ও জানেন ক্রিকেটার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই। সাকিব খেলতে নামলেই সবাই মনে করেন বাংলাদেশ খেলছে। প্রতিটি সিরিজেই তার ব্যাটিং ও বোলিং মনে তাণ্ডব জাগায়। সাকিবের মতো বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটার এখন বিদেশিদের কাছে আদর্শ। তারা জানতে চান বাংলাদেশের সাফল্যর মন্ত্রী।