সুস্থ থাকুন প্রতিদিন

Aug 01, 2017 07:41 am
সারা দিন ভালো থাকবেন

 

সাবিরা সুলতানা

মানুষ এখন বড় বেশি ব্যস্ত। প্রতিদিনের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে মানুষের এই ব্যস্ততা। আর যেহেতু ব্যস্ততা বেশি তাই মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ, পারিপার্শ্বিক সমস্যার কারণে মানুষের পক্ষে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে সুস্থ, সবল ও উদ্যমী থাকার জন্য। কিভাবে? জানুন তারই কিছু উপায়


১.সুস্থ থাকবেন মনস্থির করুন
প্রথমেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হন, আপনি সারা দিন ভালো থাকবেন। এবার ভালো থাকার জন্য একটা হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা খুবই প্রয়োজন। আপনার সারা দিনের কাজ, খাবার, বিশ্রাম সব কিছুর একটা তালিকা তৈরি করুন এবং এই তালিকা কঠোরভাবে মেনে চলুন। যতক্ষণ না এই রুটিন আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়। খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন। যে খাবারগুলো আপনার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। আপনার কাজের মধ্যে যদি কোনো টেনশন থাকে তাহলে সেই টেনশন থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ যদি আপনি মানসিকভাবে তৈরি থাকেন সুস্থ থাকার জন্য তাহলে এর জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করা মোটেই কষ্টকর হবে না।

 

২.অ্যালার্ম ক্লক ব্যবহার করুন
প্রতিদিনের কাজ যথাসময়ে করার জন্য আমরা খুব কমই অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করি। কিন্তু প্রতিটি কাজ যথাসময়ে শেষ করা সারাদিন ভালো থাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিটি কাজ যথাসময়ে শেষ করতে পারলে দিনের সব কিছু গুছিয়ে করা সম্ভব হয়। তাই প্রয়োজনে অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন। বিশেষ করে ভোরে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে পারলে এক দিকে যেমন সুস্থ থাকবেন অন্য দিকে দিনের কাজগুলোও গুছিয়ে করা সহজ হবে।

 

৩.সকালে কঠিন পরিশ্রম করবেন না
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে ভোরবেলায় ঘুম থেকে ওঠার পরই কঠোর ব্যায়াম করা বা অতিমাত্রায় পরিশ্রম নানা ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সকালের দিকে জগিং বা হালকা ব্যায়াম করুন। কাজও করুন একইভাবে। বেশি পরিশ্রমের কাজগুলো পরে করুন।

 

৪.হাঁটা বা চলাচল করুন
যারা সারাক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন তাদের হার্ট ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম হাঁটাহাঁটি করা মানুষের চেয়ে কম। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে খানিকটা হলেও হেঁটে আসুন। চা-টা খেতে পারেন হেঁটে হেঁটে। আপনার অল্প হাঁটাও আপনার শরীর ও মনকে ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

 

৫.ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দিন শুরু করুন
আমাদের অনেকেই দিনটা শুরু করেন সংবাদপত্র পড়ে অথবা খবর শুনে। সারা বিশ্বের খবরাখবর রাখা নিশ্চয়ই ভালো দিক কিন্তু দিনের শুরুতেই দুঃসংবাদ পড়া বা শোনা নেগেটিভ কিছু দিয়ে দিন শুরু করাটা সারা দিন ভালো থাকার জন্য উপকারী নয়। তাই যদি আপনি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দিনটা শুরু করতে চান তাহলে সংবাদপত্রে ভালো খবরগুলো পড়–ন। কোনো বাণীও পড়তে পারেন। অথবা বন্ধুর পাওয়া কোনো ইমেইল পড়তে পারেন। কিছুক্ষণ গান শুনতে পারেন। দিনের শুরুটা পজিটিভভাবে শুরু করলে শুধু আপনার মুড ভালো থাকবে না, কাজের উদ্যমও বাড়বে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইতিবাচক চিন্তা করেন তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম থাকে।

 

৬.গান শুনুন
গান মানুষের মনকে টেনশন ও দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। তাই অবসর পেলে বা পথে যেতে যেতে আপনার প্রিয় গানগুলো শুনতে পারেন। আজকাল গান শোনা বেশ সহজ হয়ে গেছে রেডিওর বদৌলতে। গান আপনার শরীর ও মনকে আশ্চর্যজনকভাবে ভালো রাখতে সাহায্য করবে। গান শুধু রিলাক্স হতে সাহায্য করে না বরং হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে। ব্যথা কমাতে ও ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতেও সাহায্য করে। গান মানুষের রাগ কমাতে সাহায্য করে।

 

৭.ডেস্কে বসে খাবেন না
আপনি কি সারা দিন খুব ব্যস্ত থাকেন। যত ব্যস্ত থাকুন না কেন কখনো দুপুরের খাবার বাদ দেবেন না। লাঞ্চ করবেন নিয়মিত এবং লাঞ্চে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার ও ফল রাখুন। অনেকেই ডেস্কে বসেই লাঞ্চ করেন। এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন। লাঞ্চ না করা শুধু আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে না বরং এর থেকে অনেক সময় বেশি খাওয়ার প্রবণতাও তৈরি হয়। ডেস্কে বসে খাওয়া আপনার চলাচলের ইচ্ছাকে কমিয়ে দিতে পারে। একই জায়গায় অনেকক্ষণ বসে থাকাটা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই উপকারী নয়। তাই সম্ভব হলে নিজের ডেস্ক ছেড়ে অন্য জায়গায় বসে খাবার খান। শুধু তা-ই নয়, গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের বসার ডেস্কে জীবাণুর আক্রমণ ডাইনিং টেবিলের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

 

৮.সময়মতোই খান
অনেকেই সারাক্ষণ টুকটাক খেতেই থাকেন। এতে শুধু ওজন বাড়ে না বরং খাওয়ার যে তৃপ্তি সেটা থেকেও মানুষ বঞ্চিত হয়। অনেক সময় এটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তখন ক্ষিধে থাক বা না থাক খেতে থাকে। খেতে ভালো লাগুক বা না লাগুক খাওয়া বন্ধ হয় না। তাই শুধু খাওয়ার সময়ে খান এবং যখন খাবেন তখন ভালোভাবে চিবিয়ে খান। হজমের জন্য ভালো হবে।


৯. ডায়েরি লিখুন
অনেকেরই ডায়েরি লেখার অভ্যাস আছে। প্রতিদিনের সব ঘটনা, চিন্তাভাবনা ডায়েরিতে লিখে রাখে। মনের স্বাস্থ্যের জন্য এই ডায়েরি লেখাটা খুবই ভালো। কারণ ব্যক্তি তার মনের সব অভিব্যক্তি ডায়েরিতে তুলে রাখে। এটা তার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখে, হতাশা দূর করে এবং যেকোনো ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। শুধু তা-ই নয়, মানুষকে আরো ইতিবাচক চিন্তা করতে সহযোগিতা করে। প্রতিদিন কিছুটা সময় ডায়েরি লেখা মানুষকে তার ভুল, তার চিন্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগায়।
এভাবে প্রতিটি দিন যদি আমরা ভালো থাকার জন্য চেষ্টা করি তাহলে আমাদের প্রতিটি দিনই হবে সুস্থ, সতেজ ও সফল।

 

১০.কমেডি দেখুন
টিভি দেখা এখন আমাদের দৈনন্দিন কাজের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু যখন আপনি টিভি দেখেন সেই সময়টা উপভোগ করার চেষ্টা করুন। হরর, ট্র্যাজেডি, মারামারি বা মন খারাপ হওয়ার মতো অনুষ্ঠান না দেখে বরং কমেডি দেখুন। কারণ কমেডি মানুষকে রিলাক্স হতে সাহায্য করে। মানুষ দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। মানুষের মন প্রফুল্ল হয়। এসব হার্টের জন্য খুবই ভালো। অন্য দিকে হরর বা যুদ্ধের ছবি মানুষকে মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।