পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন হিন্দু এমপি

Aug 05, 2017 02:51 pm
পাক মন্ত্রীসভার শপথ


ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানে মুসলিমলীগ (এন) সরকারে এবার জায়গা পেলো একজন হিন্দু মন্ত্রী। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন সাবেক তেলমন্ত্রী শাহিদ আব্বাসি। নয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই শপথ নিলেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নয়া মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন এক জন হিন্দুও। প্রসঙ্গত, গত ২০ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তানে মন্ত্রী হলেন কোনও হিন্দু।


এদিন ইসলামাবাদে নিজের সরকারি বাসভবনেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শাহিদ আব্বাসি। তাঁর সঙ্গে শপথ নেন ২৮ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন দর্শন লাল নামে এক হিন্দু পার্লামেন্ট মেম্বার । তাঁকে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পাকিস্তান প্রশাসন সূত্রে খবর, সিন্ধু প্রদেশের মিরপুর মাথেলো শহরের বাসিন্দা দর্শন লাল পেশায় চিকিৎসক। ২০১৩ সালে ভোটে সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত এক আসন থেকে শাসকদল মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-র টিকিটে দ্বিতীয় বার এমপি নির্বাচিত হন দর্শন।অন্যদিকে, পাকিস্তানের নয়া বিদেশমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন খোয়াজা মহম্মদ আসিফ। আগের মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, শরিফ জমানায় প্রায় চার বছর পাকিস্তানের কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলো না।


গত ২৮ জুলাই পানামা পেপার কেলেঙ্কারিতে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে দোষী সাব্যস্ত করে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। সেদেশের শীর্ষ আদালত বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকার যোগ্য নন শরিফ। এরপরই প্রধানমন্ত্রী পদ খোয়াতে হয় তাঁকে। প্রাথমিক ঠিক হয়েছিল, নওয়াজের পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন তাঁর ভাই শাহবাজ শরিফ। কিন্তু, পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ এমপি নন। তাই নওয়াজ শরিফ মন্ত্রিসভারই সদস্য শাহিদ আব্বাসিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেয় মুসলিম লিগ (নওয়াজ)। সি্দ্ধান্ত হয়েছিল, উপনির্বাচনে জিতে শাহবাজ শরিফ সাংসদ হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবে আব্বাসি।

নয়া প্রধানমন্ত্রী হবেন শাহবাজ শরিফ। কিন্তু, এখন শোনা যাচ্ছে, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আব্বাসিই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নাকি শাহবাজি এমপি হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করবেন, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ও জনবহুল রাজ্য পাঞ্জাব। অতীতে দেখা গিয়েছে, পাঞ্জাব প্রদেশে যে দলের সরকার থাকে, দেশেও তারাই সরকার গড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে পাঞ্জাব থেকে যদি শাহবাজ শরিফকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সেখানে মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর সংগঠনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পাকিস্তানের শাসকদলের নেতাদের একাংশ।


তবে নতুন মন্ত্রীসভায় একজন হিন্দু এমপিকে মন্ত্রী করার মধ্যদিয়ে শুধু মুসলিম লীগ নয় পাকিস্তানের ভাবমর্যাদা বেড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। পাকিস্তানকে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে ভারত একটি কট্রর মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনীতিতে যে উদার ধারা রয়েছে সে বার্তা নওয়াজ শরীফের দল দিতে চাইছে।