নিজের সাফল্যর জন্য যেভাবে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মুশফিক

Aug 07, 2017 03:04 pm
নামাজে বাংলাদেশি ক্রিকেট টিম

বাংলাদেশ ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিম যে সাফল্য পেয়েছেন তা আল্লাহর সাহায্যর কারনে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মুশফিকের স্থানে অন্য কেউ খেলতে পারতেন কিন্তু আল্লাহর রহমতের কারনে তিনি খেলতে পারছেন। হয়তো এমন কেউ তার জায়গায় আসতে পারতো তিনি হয়তো তার চেয়ে ভালো খেলতে পারতো। কিন্তু আল্লাহ চাইছেন বলে তিনি খেলে যাচ্ছেন। এভাবে সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ আস্থার কথা জানালেন বিশ^সেরা এই ক্রিকেটার। দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকের সাথে খোলোমেলা ভাবে তিনি এসব কথা বলেন।


খেলার পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বলে মনে করেন। এ কারনে মাস্টার্স শেষ করার পর এখন পিএচডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্টান বিকেএসপি থেকে স্কুল ও কলেজ শিক্ষা শেষ করার পর ২০০৭ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

দক্ষিন এশিয়ার তুলনামুলক ইতিহাসে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ করেন। বিশ^বিদ্যালয় পড়ার সময় তিনি খেলা বন্ধ রাখেননি। মুশফিকুর রহিম মনে করেন তিনি তার কাজের প্রতি সব সময় সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। অনেক ক্ষেত্রে সাফল্য আসেনি। আল্লাহ হয়তো তখন আমার পরীক্ষা নিয়েছে।


পেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া বেশ কষ্টকর। কারন ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটারদের খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই তাদের পক্ষে পড়াশোনার জন্য সময় বের করাটা বেশ কঠিনই হয়ে পড়ে। কিন্তু ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচিত এমন অনেক ক্রিকেটারই আছেন, যারা খেলার মাঠে যেমন দুর্দান্ত, পড়াশোনায়ও তুখোড়।এমনই একজন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।


জাতীয় দলের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর দুটোতেই পেয়েছেন প্রথম শ্রেণি। এর আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন জিপিএ-৫ নিয়ে। এবার ২৯ বছর বয়সী জাতীয় দলের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান হাঁটছেন পিএইচডি তথা ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পথে।


বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ শিক্ষিত এই ক্রিকেটারের পিএচডির বিষয় হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট। ‘আমার খেলাধুলার উপর পিএইচডি করার পরিকল্পনা ছিল এবং সেই মোতাবেক আমি সেটা শুরুও করে দিয়েছি। আপাতত আমি দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের উপর পিএইচডি করার কথা ভাবছি।’


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খেলাধুলা আর পড়াশোনার অবস্থান বিপরীত মেরুতে। তবে এই দুই মেরুকে মিলিয়েছেন মুশফিক। আর উৎসাহটা পেয়েছেন বাবা-মার কাছ থেকেই। এ প্রসঙ্গে মুশফিকের ভাষ্য, ‘শিক্ষাগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আপনাকে আরও জ্ঞানী হতে সাহায্য করে। একজন মানুষ হিসেবে আমি চাই আমার পরবর্তী প্রজন্ম তাদের বাবা-মায়ের দিকে লক্ষ্য করুক এবং অনুধাবন করুক শিক্ষা অর্জন কতটা গুরুত্বপূর্ণ- তা আপনি যে-ই হোন না কেন। আমার বাবা-মা সবসময়ই আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন।’