সৌদি কারাগারে ৬ ঘণ্টা

Aug 09, 2017 07:36 pm
একে কারাগার বলে চিনতে পারত

 


সৌদি আরবের কারাগার নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীদের অনেক অভিযোগ। সেই অভিযোগ কতটা সত্য আর কতটা কল্পিত, স্বচক্ষে দেখেছেন এক বিদেশী সাংবাদিক। তার প্রত্যক্ষ দর্শনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী লিখেছেন

 

দরজায় মেশিনগান ও গার্ড টাওয়ার না থাকলে কে একে কারাগার বলে চিনতে পারত! বিশেষ করে দম্পতিদের সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত শাখাটি দেখলে তো যে-কারোই মাথা ঘুরে যাওয়ার কথা। ভারী লোহার গেট আছে বটে, তবে তার শিকগুলোয় চমৎকার ফুলের ছবি আঁকা। দীর্ঘ বারান্দায় লাল কার্পেট বিছানো। সেখানে আছে ৩৮টি প্রাইভেট সেল। প্রতিটি সেলে আছে একটি করে কুইনসাইজ বিছানা, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও গোসলখানা।


এটি হলো সৌদি আরবের আল-হাইর হাই সিকিউরিটি কারাগারের একাংশের চিত্র। সৌদি সরকার তাদের কারাগারে বন্দীদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়, বন্দীদের মানবাধিকার বলে কিছু নেই এমন ধরনের প্রচার-প্রচারণা পশ্চিমা সরকার, সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে আসছিল। সৌদি সরকার এত দিন সেসব প্রচার-প্রপাগান্ডার জবাব দিয়েছে মুখে মুখে, কিন্তু সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের কারাগারে ঢোকার অনুমতি দেয়নি। ফলে পশ্চিমাদের মুখ বন্ধ করা যায়নি। গুয়ানতানামো তাদের চোখে তেমন না পড়লেও মুসলিম দুনিয়ার ব্যাপারে তাদের মানবাধিকার বোধ টনটনে।


গত বছরের গোড়ার দিকে এ ব্যাপারে সাহসী পদক্ষেপ নেন সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ। তিনি আদেশ দেন, সাংবাদিকরা চাইলে অনুমতি নিয়ে সৌদি কারাগার পরিদর্শন করতে পারবে।
এই অনুমতির সুযোগ নিয়ে হাই সিকিউরিটি আল-হাইর কারাগার পরিদর্শনে যান পশ্চিমা সাংবাদিক কেভিন সুলিভান। এটা গত বছরের কথা। তার জবানিতে শোনা যাক সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা:

আমার সাথে ছিলেন কারাগারে ওয়ার্ডেন মোহাম্মদ আল-আহমদ। সেদিন ছিল রোববার। দুপুরবেলা। মোহাম্মদ আমাকে বললেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমাকে খালি দেখিয়ে দেন কোন বিল্ডিংটায় যাবেন, কোন সেলে ঢুকবেন। আপনি যা দেখতে চাইবেন, তা-ই দেখানো হবে।’


ওয়ার্ডেনের কথামতো আমি পরবর্তী ছয় ঘণ্টা ওই কারাগারে কাটাই। এই দীর্ঘ সময়ে আমি যেখানে যেতে চেয়েছি, মোহাম্মদ হাসিমুখে আমাকে সেখানে নিয়ে গেছেন। আমি দেখেছি সেল ব্লকগুলো, হাসপাতাল, নির্জনবাসের বিভিন্ন সেল, ক্লাসরুম ও অবসর বিনোদনের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলো। মোহাম্মদ আমাকে একবারও বলেননি যে অমুক এলাকাটিতে যাওয়া যাবে না। শুধু নিষেধ ছিল ছবি তোলায়।
যাত্রার শুরুতে ঐতিহ্যবাহী সৌদি রীতি অনুযায়ী আমাদের চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এরপর পাওয়ার প্রেজেন্টেশনের সাহায্যে দেখানো হয় সৌদি সরকারের কৌশল-গুয়ানতামোর মতো কঠোর পরিবেশের পরিবর্তে এবং বন্দীদের সহৃদয় আচরণের মাধ্যমে সুপথে ফিরতে উদ্বুদ্ধ করা।


রাজধানী রিয়াদের কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত আল-হাইর করাগারে প্রায় ১১ শ’ বন্দী আছে। বন্দীদের বেশির ভাগ সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য সাজাপ্রাপ্ত। সৌদি আরবে এটি ছাড়া আরো চারটি হাই-সিকিউরিটি কারাগার আছে। তবে আল-হাইরই সর্ববৃহৎ। আল-কায়েদা ও আইএস প্রভৃতি সন্ত্রসবাদী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলার চিন্তাভাবনা থেকে সৌদি সরকার গত দশকে এসব কারাগার প্রতিষ্ঠা করে।


আল-হাইর কারাগারে আছে দম্পতি সাক্ষাৎ উইং। বিবাহিত বন্দীরা মাসে একবার তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা তাদের স্ত্রীদের সাথে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পান। এ সময় বিছানার নতুন চাদর সরবরাহ করা হয়। রাখা হয় চা ও মিষ্টির ব্যবস্থা।
বন্দীদের পরিবারের ভালো-মন্দের খোঁজও রাখে সৌদি সরকার। সরকার তাদের খাদ্য, বাড়িভাড়া ও ছেলেমেয়েদের স্কুলের ফি বাবদ টাকা দেয়। বন্দীকে দেখতে আসার যানবাহন ভাড়া এবং হোটেল ভাড়াও দেয়। এমনকি বিদেশী বন্দীদের স্বজনদের আসা-যাওয়ার বিমানভাড়াও সৌদি সরকার বহন করে থাকে। কোনো বন্দীর (খুনের আসামি ছাড়া) পরিবারের কোনো সদস্যের বিয়েতেও যোগ দেয়ার সুযোগ আছে। তবে এ সময় তাকে কড়া পাহারায় রাখা হয়। আবার বিয়েতে উপহার দেয়ার জন্য ২৬ শ’ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থও বন্দীকে দেয় সরকার।


পাওয়ার প্রেজেন্টেশনে এসব দেখেশুনে এবার সরেজমিনে কারাগার পরিদর্শনের পালা। প্রথমেই গেলাম ফ্যামিলি হোমে। এটি আসলে কারাগারের ভেতরে একটি হোটেল। সদাচরণের পুরস্কারস্বরূপ কোনো কোনো বন্দীকে এখানে থাকার সুযোগ দেয়া হয়। এই হোটেলে আছে ১৮টি বড় স্যুইট, যার একটিতে পরিবারের কমবেশি নয়জনের মতো সদস্যকে নিয়ে ঘুমাতে পারেন একজন বন্দী। এ ছাড়া স্যুইটে দেয়া হয় তাজা ফুল। আছে বুফে খাবারের ব্যবস্থা এবং শিশুদের খেলার জায়গা।


বন্দীদের জন্য এসব সুবিধার ব্যবস্থা করতে গিয়ে সৌদি সরকারকে প্রতি বছর সাড়ে তিন কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়। এ প্রসঙ্গে কারাগারের ওয়ার্ডেন মোহাম্মদ বলেন, ‘কেউ একজন অপরাধী হয়ে গেল বলে তো আমরা তার পরিবারকে শাস্তি দিতে পারি না। আমাদের কৌশল হলো, সমাজের জন্য যারা ভালো কিছু করতে পারবে, তাদের দেখভাল করা। ইসলাম আমাদের এটাই করতে বলেছে।’


সৌদি আরবের পাঁচটি হাই-সিকিউরিটি কারাগারে সাড়ে তিন হাজার বন্দী আছে। এদের বেশির ভাগই সন্ত্রাসবাদী অপরাধে জড়িত। এর মধ্যে সৌদি আরবে আল-কায়েদার হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনও আছে।
এসব কারাগার পরিচালনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। গোয়েন্দা সংস্থা মাবাহিথ। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মনসুর আল-তুরকি বলেন, ‘অপরাধী ও চরমপন্থীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সৌদি সরকার বন্দীদের পরিবারের দেখাশোনা করে।’
এ ছাড়া সৌদি সরকার দীর্ঘ দিন থেকে সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদীদের লেখাপড়া ও ধর্মীয় শিক্ষার কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। বন্দীদের চিন্তাভাবনা ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।


জেনারেল তুরকি বলেন, ‘যদি ওদের আমরা কিছু না শেখাই তাহলে দেখা যাবে কিছু দিন পর আরো বেশি কট্টরপন্থী হয়ে ফিরে এসেছে। ওদের পরিবারকে সহায়তা করার কারণ হলো, ওরা যাতে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে না পড়ে যায়।’
তিনি জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পন্ন করেও ২০ শতাংশের মতো মানুষ কারাগার থেকে বেরিয়ে ফের সন্ত্রাসবাদীদের সাথে গিয়ে জুটেছে।


তবে সমালোচকরা জেনারেল তুরকির এ সংখ্যাতত্ত্বে আস্থাশীল নন। তাদের মতে, ২০ শতাংশ নয়, বরং আরো বেশি বন্দী মুক্তি পেয়ে সন্ত্রাসবাদে ফিরে গেছে। তা ছাড়া অনেক সৌদি নাগরিক, বিশেষ করে ধনাঢ্য সৌদিরা সহিংস চরমপন্থীদের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে থাকে। এ অবস্থায় সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচিও সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়।
জবাবে সৌদি কর্মকর্তারা বলেন, বন্দীদের ব্যাপারে আমরা যে নীতি নিয়েছি তা অধিকতর বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। আমরা হাজার হাজার কট্টরপন্থীকে বছরের পর বছর আটকে রাখব, আর তাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব আরো কট্টর হয়ে যাবে না, তা কিভাবে আশা করি?


সৌদি কর্মকর্তাদের বক্তব্য সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের পরিচালক ব্রুস হফম্যান বলেন, পুনর্বাসন কর্মসূচি না থাকলে কারাগার হয়ে পড়ে ‘টেররিস্ট ইউনিভার্সিটি’। ছোট অপরাধীরা এখান থেকে বেরিয়ে হয়ে যেতে পারে সন্ত্রাসবাদী। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে বেরিয়ে ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ অপরাধী আবার অপরাধে ফিরে যায়। সেই তুলনায় সৌদি আরবের ২০ শতাংশ তো খারাপ না। পুনর্বাসন কর্মসূচি নিঃসন্দেহে কাজে দিচ্ছে।

 

আমরা হাঁটছিলাম। ওয়ার্ডেন এবার আমাদের মূল কারাভবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে একটা বড় খোলা জায়গা। এর দুই পাশে অনেক ধাতব দরজা, মেটাল ডিটেক্টর এবং বেশ কয়েকটি লোহার ফটক। ওয়ার্ডেন জানতে চাইলেন, কোনটা দেখবেন?
আমি কিছু না-ভেবেই একটা হলওয়ে দেখিয়ে দিলাম। ওয়ার্ডেন ফটক খোলার আদেশ দিলেন গার্ডকে। হলওয়েটি লম্বায় ৫০ গজের মতো হবে। সেলের মাঝখানে দেয়ালে পেইন্টিং ঝোলানো, ওতে মরুভূমির দৃশ্য আঁকা।


অল্প কদ্দূর গিয়ে আমি একটি সেল দেখিয়ে দিলাম, ওখানে আটকে থাকা বন্দীদের সাথে কথা বলব। দরজা খুলতেই দেখি ছয়জন তরুণ বন্দী, বয়স সবার ২০-এর কোঠায়; পরণে জেলখানার পোশাক; ধূসর রঙের লম্বা জোব্বা। আমাদের দেখে ওরা অবাক! তবু ওরা আমাদের অভ্যর্থনা জানাল।
এ রকম সেল পরে আরো দেখেছি; যেন একটি বড় কিউব ২০ ফুট বাই ২০ ফুট। ২০ ফুট উঁচুতে ছাদ। অনেক উঁচুতে একটি দেয়ালে চারটি জানালা। তা দিয়েই বাইরের আলো ঢোকে।
কার্পেটে মোড়া মেঝেতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ম্যাট্রেস। তাতে শুয়ে শুয়ে ওরা একটি দেয়ালে লাগানো টিভি দেখছিল। রুমটি সাদামাটা, তবে পরিচ্ছন্ন। সাথে আছে একটি বড় বাথরুম ও শাওয়ার এরিয়া। দেয়ালে ঝোলানো প্লাস্টিকের ব্যাগে বিস্কুট, ক্যান্ডি বার, আপেল ও কলা রাখা আছে।


বন্দীদের একজনের নাম ফাহাদ। বিচারাধীন এই তরুণ বন্দী জানায়, আইএসে যোগ দিতে সে সিরিয়া গিয়েছিল। কারণ, সে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। সে বলল, কিন্তু গিয়ে দেখি কি, আমাদের যেভাবে বলা হয়েছিল, ঘটনা আসলে তেমন নয়। আইএস প্রেসিডেন্ট বাশারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না, করছে অন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে।
ফাহাদ জানায়, আইএস জঙ্গিরা প্রথমেই সবার পাসপোর্ট নিয়ে নেয়। মাস-দুই পর আমি পালিয়ে চলে আসি তুরস্কের রাজধানী আংকারায়। আশ্রয় নিই সৌদি দূতাবাসে। এর পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেখান থেকে এই কারাগারে। ফাহাদ বলে, জেলখানায় তো কেউ সুখে থাকে না। তবে এখানকার ব্যবস্থাদি ভালো।


আমার মনে সন্দেহ জাগে, ওয়ার্ডেন স্বয়ং হাজির। তার সামনে বসে বন্দী এ কথা ছাড়া আর কী-ই বা বলতে পারত? সন্দেহ কাটাতে আমি যোগাযোগ করি গ্যারি হলের সাথে। তিনি জাতিসঙ্ঘের সাথে যুক্ত অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল করেকশানস অ্যান্ড প্রিজনস-এর হয়ে কাজ করেন এবং সেই সুবাদে বিশ্বের ৮০টি দেশের কারাগার দেখার সুযোগ তার হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার এই মানুষটি গত ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে আসা-যাওয়া করছেন এবং বন্দীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়নে কর্মকর্তাদের সহায়তা দিচ্ছেন। তিনি আমাকে বলেন, ‘আল-হাইর কারাগারে তুমি যা দেখেছ, তা শুনে আমি মোটেই অবাক হচ্ছি না। আসলেই ওরা বন্দীদের খুব যতœ নেয়। এটাই ওদের ধর্ম।’


তবু আমার মনের সন্দেহ যায় না। এবার আমি ফোন করি সৌদি অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আল-কাহতানিকে। সরকারের সমালোচনা করায় ২০১৩ সালে তার ১০ বছর কারাদণ্ড হয়। আল-হাইরের কাছে একটি সাধারণ কারাগারে সাজা ভোগ করছেন তিনি।
কাহতানি বলেন, অনেক বন্দীর পরিবারকে কারাগার থেকে অর্থসাহায্য দেয়া হয়। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আমার পরিবার নীতিগত কারণে এ অর্থ নিতে অস্বীকার করেছে।


কাহতানি জানান, তিনি পত্রপত্রিকা ও বইপুস্তক পড়তে পারেন। টেলিভিশন দেখতে পান এবং প্রতিদিন ফোনে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে পারেন। তিনি আরো জানান, তার সহবন্দীদের অনেকেই সহিংস অপরাধ ও মাদক পাচার মামলার আসামি। ওরা প্রায়ই কারাগারে মারামারি করে। এ ছাড়া একজন বন্দীকে এক মাস নির্জনবাসে রাখার পর সে আত্মহত্যা করে।
শুধু নিজের মনের একটি কথা বলায় তাকে জেলে ভরেছে সৌদি সরকার এজন্য খুবই ক্ষুব্ধ কাহতানি। তবে কারাগারের ভেতরের অবস্থা ব্যবস্থা নিয়ে বড় কোনো অভিযোগ নেই তার। তার কথা, একেবারে খারাপ নয়।