অনন্ত জলিলের ইসলাম প্রচারের খবর আর্ন্তজাতিক গনমাধ্যমে

Aug 10, 2017 03:01 pm
অনন্ত জলিল ইসলাম প্রচারের কাজে আত্ননিয়োগ করবেন


সজল মাহমুদ


চলচ্চিত্র অভিনেতা অনন্ত জলিল ইসলাম প্রচারের কাজে আত্ননিয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন চলচ্চিত্রে তার খ্যাতিকে ইসলামের কাজে লাগাবেন। এর আগে আরেক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাজনীন আকতার হ্যাপি ইসলামের কাজে নিজেকে আত্ন নিয়োগের ঘোষনা দিয়েছেন। ইসলাম প্রচারকে লক্ষ রেখে তার লেখা একটি বইয়ের অসংখ্য কপি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। অনন্ত জলিলের ইসলাম প্রচারে আত্ননিয়োগের এ খবর আরব নিউজ, গালফ নিউজসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। 


৩৯ বছর বয়স্ক অনন্ত জলিল গত মাস থেকে রাজধানী ঢাকায় ধর্ম প্রচার শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাজামা-পাঞ্জাবি আর পাগড়ি পড়া ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।এএফপিকে অনন্ত জলিল বলেন তিনি তাবলিগ জামাতে যোগদান করেছেন। তাবলীগ জামাত লাখ লাখ লোককে ইসলামের পথে ডেকে থাকে। অনন্ত জলিল বলেন এ বছর মক্কা থেকে ফিরে আসার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তিনি বলেন আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তার শ্রেষ্টত্ব প্রচারের জন্য। আমি সে কাজটি এখন করতে চাই।আমি যদি তরুনদের এই পথে ডাকি তাহলে তারা আল্লাহ ও রাসুলকে মেনে চলবেন এবং ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করবেন। অনন্ত জলিল বলেন তিনি এমন সিনেমা বানাতে চান যার মাধ্যমে ইসলামের প্রচার হবে।অনন্ত জলিল একজন সফল গার্মেন্টস ব্যবাসায়ী। ইতোমধ্যে তিনি ৬টি সিনেমা তৈরি করেছেন।

২০১০ সালে খোজ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয় জগতে আসেন। খোঁজ ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল মুক্তিপায়। ছবিটি জুন ২০১০ এ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পরে ইতালি ও যুক্তরাজ্যে মুক্তি পায়। ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত এবং মনসুন ফিল্মস প্রযোজিত-পরিবেশিত বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ছবিটিতে বাংলাদেশের অভিনয় শিল্পীরা ছাড়াও বিশ্বের কয়েকটি দেশের অভিনয় শিল্পীরা অভিনয় করেছেন, এর মধ্যে রয়েছে কয়েকজন নতুন শিল্পী।


এম.এ. জলিল অনন্ত যিনি অনন্ত জলিল হিসেবেই বেশি পরিচিত, একাধারে একজন চলচিত্র পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক ও ব্যবসায়ী।এর আগে রেডিও ফুর্তিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অনন্ত জলিল বলেন, তিনি ও তাঁর বড় ভাই মুন্সিগঞ্জ জেলায় বাবার কাছে বড় হয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে তাঁর মা মারা যান। রেডিও এবিসিকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে অনন্ত তাঁর নাম "আব্দুল জলিল" নামের গৃহশিক্ষকের অণুপ্রেরণায় তাঁর বাবা রেখেছেন বলে জানান।


অনন্ত জলিল ও লেভেল আর এ লেভেল করেছেন ঢাকার অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে। এরপর ম্যানচেস্টার থেকে বিবিএ এবং ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়েন।


জলিল ১৯৯৯ সালে একজন সফল ব্যবসায়ি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ২০১০ সালে খোজ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন।  তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার পাশাপাশি চলচ্চিত্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, নিজের প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে। নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আনার জন্য রূপালীপর্দায় ঝুঁকেছেন অনন্ত জলিল।


অনন্ত জলিল সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ৩টি এতিমখানা নির্মাণ করেছেন। মিরপুর ১০ নং , বাইতুল আমান হাউজিং ও সাভার মধুমতি মডেল টাউনে আছে এতিমখানাগুলো। এ ছাড়াও সাভারের হেমায়েতপুরের ধল্লা গ্রামে সাড়ে ২৮ বিঘার উপর একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন অনন্ত জলিল। তিনি ঢাকার হেমায়েতপুরে অবস্থিত বায়তুস শাহ জামে মসজিদ এর নির্মাণকাজেও অবদান রাখেন।