কোরবানির ঈদে যেসব প্রস্ততি থাকা জরুরি

Aug 31, 2017 01:18 pm
কোরবানি ঈদের প্রস্তুতিটা একটু বেশিই নিতে হয়

 

আফরোজা আখতার

প্রতিটি উৎসবেই উৎসব অনুযায়ী চলে নানা প্রস্তুতি। আর বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ হলে তো কথাই নেই। দুই ঈদের মধ্যে কোরবানি ঈদের প্রস্তুতিটা আবার একটু বেশিই নিতে হয়। বিশেষ করে যারা কোরবানি দিতে চান তাদের জন্য বাড়তি কিছু পূর্বপ্রস্তুতি অবশ্যই রাখতে হয়।


সাধারণত ঈদের ঘরোয়া আয়োজনের পাশাপাশি কোরবানির সরঞ্জাম, কোরবানির পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কোরবানির পশুর গোশত সংরক্ষণ, বিলি-বণ্টন ইত্যাদি কাজে গৃহিণীদেরই বেশি তৎপর হতে হয়। তাই ঘরের অন্যান্য প্রস্তুতির সাথে সাথে এ বিষয়েও বাড়তি সতর্কতা থাকা প্রয়োজন। অনেকেই ঈদের আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে তা ভাবার সময় পান না আবার অনভিজ্ঞতাও থাকে অনেকের। তাই কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি কেমন হবে সে বিষয়ে এবার রইল কিছু পরামর্শ।

ঈদের দু-একদিন আগে পশু কেনার পরই কোরবানি দেয়ার ছুরি, গোশত কাটার চাপাতি, হাতুড়ি, কাঠের তক্তা, বটি ইত্যাদি যা যা দরকার সব জোগাড় করে ধুয়েমুছে রাখবেন। ধার দেয়ার দরকার হলে আগে থেকেই করে রাখুন। গোশত রাখার বড় হাঁড়ি, ডেকচি, কড়াই সংগ্রহে রাখুন। কারণ সব গোশত সাধারণত একসাথে ফ্রিজে রাখা সম্ভব হয় না। গোশত কাকে কাকে দেবেন সে বিষয়ে আগেই ভেবেচিন্তে লিস্ট করুন।

ঘরোয়া প্রস্তুতি
ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র, হাঁড়ি-কুড়ি আগেই ধুয়েমুছে রাখুন। ঈদের এক-দু’দিন আগেই এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিন। এ ঈদে সাধারণত কোরবানির আগ পর্যন্ত গোশত তেমন রান্না হয় না। তবে অন্যান্য রান্নার আয়োজন আগেই করে রাখুন। কারণ গোশত কেটে আনার পর কর্তা চাইবেন তাজা গোশতের তরকারি, আবার গোশত বিলি-বণ্টনেরও তোড়জোড় পড়ে যাবে।
গোশত নিতে আসা লোকজন গোশত দেখলেই দুয়ারে ভিড় করবে। তখন এত কিছুর মধ্যে তড়িঘড়ি অন্য রান্না করলে ভালো হয় না। আর গোশত নিয়ে ঝামেলা শেষ হওয়ার পর আপনিও চাইবেন কিছুটা বিশ্রাম।
কোরবানির ঈদে যারা কোরবানি দেন তাদের অতিথি আপ্যায়নে বিশেষ যত নেয়ার সময় থাকে না। তাই অন্তত ঈদের এক-দু’দিনের মধ্যে কাউকে বিশেষভাবে নিমন্ত্রণ করতে পারলেই ভালো হয়। গরু বা খাশি যা-ই কোরবানি দিন না কেন গরুর নাড়ি-ভুড়ি, মগজ ইত্যাদি সংরক্ষণে দক্ষ লোক জোগাড় করুন। নইলে প্রয়োজনের মুহূর্তে আপনার একার পক্ষে সব সামলানো সম্ভব হবে না।

গোশত বিলি-বণ্টন ও সংরক্ষণ
কোরবানির গোশত তিন ভাগ করার পর গরিব-ফকিরদের ভাগ বাদে নিজের ও আত্মীয়দের ভাগ নিয়ে বসুন। নিজেদের জন্য যে গোশত-কলিজা ইত্যাদি রাখবেন তা একটু বড় সাইজের টুকরা করে ন্যূনতম আধা বা এক কেজি পরিমাণে আলাদা আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করুন। ফ্রিজের ডিপে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে গোশত লবণ হলুদ দিয়ে জ্বাল দিয়ে রাখতে পারেন।
আবার চর্বি, তেল দিয়ে ভেজেও রাখতে পারেন। তবে রান্নার আগে ভালো করে রক্ত পরিষ্কার করে নেবেন। এটা ধর্মীয়ভাবেও নির্দেশিত নইলে গোশত হালাল ও খাদ্যোপযোগী হবে না। কোরবানির গোশত ভিনিগার অথবা লেবুর রসে ডুবিয়ে ফ্রিজের নরমাল তাপেও রাখতে পারেন।
গোশত সংরক্ষণের আগে চর্বিযুক্ত গোশত, চর্বিছাড়া গোশত, হাড়ের গোশত, হাড়ছাড়া গোশত, কলিজা, মগজ, ভুড়ি কোনটা কোন প্যাকেটে আছে তা চিহ্নিত করে রাখুন। পরে ঝামেলায় পড়তে হবে না।

কোরবানির পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
কোরবানি দেয়ার পর পশুর শরীর থেকে রক্ত ঝরে যাওয়ার সময় দিতে হবে। এরপর জায়গাটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর পরিষ্কার স্থান বা পাত্রে গোশত রাখতে হবে। অপরিষ্কার জায়গায় গোশত রাখলে গোশত দূষিত হয়ে পচন ধরতে পারে। যিনি গোশত সংরক্ষণ করবেন তিনি হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নেবেন। কাটার বটি, হাঁড়ি সব পরিষ্কার হতে হবে।
কোরবানির পশুর চামড়া দ্রুত দান অথবা বিক্রি করে দিন। কোরবানির স্থানের বর্জ্য পরিষ্কার করে ক্লোরিন দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। দুর্গন্ধ সহজে না গেলে এবং রক্তের দাগ না উঠলে ওই স্থানে ডিটারজেন্ট পাউডার, ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে ঝাড়– দিয়ে ভালো করে ঘষে অন্তত এক ঘণ্টা রাখুন, এরপর প্রচুর পানি ঢেলে দিন। কোরবানির জায়গা ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে মশা ও রোগ জীবাণুর উৎপাত বাড়ে।