এন্টোবায়োটিক খাওয়ার আগে যা না করলে বিপদ হতে পারে

Oct 03, 2017 04:29 pm
অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শুরু করতে যাচ্ছেন



মুনীর তৌসিফ


আপনি কি অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শুরু করতে যাচ্ছেন? তা হলে কোর্স শুরুর আগে আপনাকে কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে :

বড়ি খাওয়ার সময় তালিকা কী হবে?
হতে পারে আপনাকে বলা হলো ‘প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর ১টি বড়ি খাবেন’। যদি এমন নির্দেশ দেয়া হয়, তবে এর অর্থ এই নয়Ñ ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সময় এদিক-ওদিক করে যে কোনো সময়ে মোট ৩টি বড়ি খেলেই চলবে। ফার্মাসিস্ট বারবারা ইয়ংয়ের সতর্কবার্তা হচ্ছে; ‘এমনটি কিছুতেই করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে একটি বড়ি খাওয়ার পর এর ঠিক ৮ ঘণ্টা পর আরেকটি বড়ি খেতে হবে। কারণ, অ্যান্টিবায়েটিক সবচেয়ে কার্যকর হয় যদি তা প্রতিটি ডোজের মাঝখানে সমান সময় ব্যবধান রাখা হয়। এর ফলে আমাদের রক্তপ্রবাহে সব সময় সঠিক পরিমাণ ওষুধের উপস্থিতি থাকে। এই ৮ ঘণ্টা পর পর বড়ি খাওয়াা কিংবা প্রতিবার খাবারের সাথে ১টি বড়ি খাওয়ার কথা না বলে সাধারণ চিকিৎসকেরা বলতে পারেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে ১টি বড়ি, দুপুরের খাবারের সময় ১টি এবং রাতে ঠিক ঘুমাতে যাওয়ার আগে আরেকটি খাবেন। এ সময় তালিকা অনুসরণ করা উত্তম ও সহজতর।

কোনো ডোজ মিস করলে কী করব?
কিছু কিছু অ্যান্টিবায়োটিক আছে, যেগুলো কোনো ডোজ মিস করলে, তা মনে হওয়ার সাথে সাথে খেয়ে নিলে ভালো। আর কিছু কিছু আন্টিবায়োটিক খেতে ভুলে গেলে, তা পরবর্তী ডোজের সময় আসার পর খাওয়াই ভালো। তাই জরুরি হচ্ছে, চিকিৎসকের কাছে থেকে জেনে নেয়া ডোজ মিস করলে কী করতে হবে। এ পরামর্শ দিয়েছেন ফার্মাসিস্ট বারবারা ইয়ং।

কখন উন্নতি বোধ করতে পারি?
শিগগিরই। আপনি যদি বেশ কিছুদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েও অধিকতর সুস্থ বোধ না করেন, কিংবা অবস্থা আগের চেয়ে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে তবে আপনাকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফার্মাসিস্ট ভিনসেন্ট হার্টজেল। চিকিৎসক ভিন্ন কোনো পরামর্শ না দিলে এ অবস্থায় আগের নির্দেশ মতো অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যেতে হবে। আপনি সুস্থ বোধ করছেন, শুধু এ কারণে কোর্স পুরো করার আগে কখনোই অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করবেন না। তা করলে আপনার অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কমে যেতে পারে।

এর সাথে কি পুরো এক গ্লাাস পানি খেতে পারি?
অবশ্যই। ফার্মাসিস্ট নরম্যান তমাকা বলেন, অ্যান্টিবোয়োটিকের সাথে পানি সেবন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর পুরো এক গ্লাস পানি সেবন করলে পেটের ভেতরের সবকিছুকে ভিজিয়ে রাখবে, তা পেটের অসুবিধা দুরে রাখতে সহায়ক হবে।

কোনো বিশেষ খাবার কি এড়িয়ে চলব?
কিছু ওষুধ নির্দিষ্ট কিছু খাবারের সাথে ভালো কাজ করে না। কারণ, এসব খাবার ওষুধের প্রভাবের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। যেমন, দুধজাত খাবার টেট্রাসাইক্লিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। কারণ এই খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম বন্ধন গড়ে তোলে অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে। ফলে আপনার শরীর আন্টিবায়োটিক শোষণ করে নিতে পারে না বারবারা ইয়ং এমনটি জানালেন। অপরদিকে হার্টজেল বলেন,‘আঙ্গুরজাতীয় ফলের রসও অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যদি চিকিৎসক বলেন, খালি পেটে ওষুধ খেতে হবে, তবে তা মেনে চলুন। হার্টজেল বলেন, ‘কেননা খাবার আপনার শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক মিশে যেতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

আমাকে কি প্রোবায়োটিকও নিতে হবে?
চিকিৎসক আপনাকে প্রোবায়োটিক খাবারের পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন বলতে পারেন, প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ দই কিংবা প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট (পরিপূরক) খেতে বলতে পারেন, যাতে পাকস্থলীর সমস্যা না হয়, মূত্রনালীর সমস্যা ইউটিআই (ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন) কিংবা ইয়েস্ট ইনফেকশন (ছত্রাকের সংক্রমণ) না ঘটে। উপকারী ব্যাকটেরিয়া আমাদের হজমপ্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। এর মধ্যে সেগুলোও আছে, যেগুলোর ধ্বংস আপনি চান না। হার্টজেল বলেন, প্রোবায়োটিক ওষুধ সেবনের সময় এ ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে। গড়ে তুলতে পারে কার্যকর প্রতিষেধক ব্যবস্থা।

বড়ি কি গুঁড়া করে খাওয়া ঠিক হবে?
বড়ি গুঁড়া করে সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আস্ত বড়ির মতো গুঁড়া করা বড়ি শরীরের সাথে ততটা না-ও মিশতে পারে বললেন বারবারা ইয়ং। আস্ত বড়ি গিলে খেতে আপনার অসুবিধা হলে, তাহলে আপনি তরলাকারের কিংবা চুষে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক খেতে পারেন।

আমি কি অ্যান্টিবায়োটিক নেবো?
চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করা এক-তৃতীয়াংশ অ্যান্টিবায়োটিক সঠিক নয় এটি ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর এক সমীক্ষা থেকে জানা গেছে। অ্যান্টিবায়োটিক নেয়ার আগে অনেক সাইনাস, কান, শ্বাসপ্রশ্বাসের সংক্রমণের রোগীর জন্য অপেক্ষা করার নীতি অবলম্বন উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। কেন ওষুধ নেয়া উচিত হবে সে বাপারে ডাক্তার আপনাকে ভালো পরামর্শ দিতে পারেন, জানালেন নরম্যান তমাকা।