কীভাবে বুঝবেন ডায়বেটিস হয়েছে

Oct 05, 2017 05:31 pm
ডায়বেটিস

 

আজকের দিনে ডায়বেটিস অত্যন্ত সাধারন রোগ। এখন ঘরে ঘরে ডায়বেটিস রোগী । রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে গেলে ডায়বেটিস রোগের শিকার হই আমরা। ইনসুলিন হরমোনের উৎপাদন রক্তে কমে গেলে ডায়বেটিস জাঁকিয়ে বসে শরীরে। টাইপ ১ ডায়বেটিস খুব কমবয়সে হতে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর তা কিছুটা নির্ভর করে। অন্যদিকে টাইপ ২ ডায়বেটিস সাধারণত চল্লিশের কোঠা পেরনোর পর হয়ে থাকে। ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ৪০ কোটি মানুষ ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত। আর এর মধ্যে ৯০ শতাংশই আক্রান্ত টাইপ ২-তে। আসুন আমরা ডায়বেটিসের নানা পূর্ব লক্ষণগুলো জেনে নেই ।

ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া : যদি দেখেন দিনের মধ্যে বারেবারে আপনাকে বাথরুমে যেতে হচ্ছে প্রস্রাবের জন্য তাহলে সাবধান হোন। কিডনি তখন চেষ্টা করে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজকে বের করে দিতে।

অতিরিক্ত তৃষ্ণা : ডায়বেটিসে আক্রান্ত হলে গলা বারবার শুকিয়ে আসে। প্রস্রাবের সময়ে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যাওয়ার তেষ্টা পায়।

খিদে বেড়ে যাওয়া : হঠাৎ করে কিছুদিনের মধ্য়ে কিদে বেড়ে গেলে সাবধান হোক। ডায়বেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ এটি।
মুখ শুকিয়ে যাওয়া : ডায়াবেটিস রোগে মুখের ভিতরের অংশ বারবার শুকিয়ে যায়। ডায়বেটিসের ফলে শুকনো মুখ হলে তা আরও নানা সমস্যা তৈরি করে। দাঁত ও মাড়ির সমস্যা হয় শুকনো মুখে।

ওজন কমা বা বেড়ে যাওয়া : কোনও কারণ ছাড়াই যদি দেখেন ওজন কমে গিয়েছে বা বেড়েছে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ক্লান্তি : ডায়বেটিস হলে অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়বেন আপনি। এছাড়া ঘুমের মধ্যে বারবার বাথরুমে যাওয়া, ঠিকমতো ঘুম না হওয়াও আপনাকে ক্লান্ত করে দেবে।

দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা : রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে তা চোখেরও ক্ষতি করে। দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, ঝাপসা দেখতে শুরু করবেন আপনি।

মাথাব্যথা: ডায়বেটিসের ফলে মাথাব্যথার সমস্যাও হতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে মাথাব্যথা সঙ্গী হতে পারে। গ্লুকোজের পরিমাণ যত বাড়বে, ততই মাথাব্যথা তীব্র হবে।

কাটা-পোড়া সহজে শুকোবে না : ডায়বেটিস হলে কোন জায়গায় কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে সহজে তা শোকাবে না।
সহজেই সংক্রমণ হবে শরীরে : ডায়াবেটিসে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলে যেকোনও রোগের সংক্রমণ সহজেই হতে পারে শরীরে।

হাত-পায়ে অসাড়তা : ডায়বেটিসের ফলে আমাদের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হাত-পা বা শরীরের নানা অঙ্গে অসাড়তা দেখা দিতে পারে।

চামড়ার রঙ বদলে যায় : গলা, কুঁচকি, বগল ইত্যাদি জায়গার চামড়ার রঙ গাঢ়় হয়ে যায়। ডায়বেটিস হলে নিম্নাঙ্গে, কুঁচকিতে চুলকানি অনুভব হয়।

যৌন অক্ষমতা : ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগীর যৌন অক্ষমতা তৈরি হয়। তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে ডায়বেটিক পুরুষরা সন্তানের জন্ম দিতে অক্ষম হন।