দুনিয়াকে বদলে দিতে গুগলের সহ প্রতিষ্টাতা যেভাবে কাজ করেন

Oct 09, 2017 03:06 pm
ল্যারি পেজ

 

আহমেদ ইফতেখার

অ্যালফাবেটের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ খুবই উচ্চাকাক্সক্ষী। প্রকৌশলীদের দেয়া আইডিয়া তার পছন্দ না হওয়ায় শীর্ষ সার্চ জায়ান্টের টেনএক্স প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি। অ্যালফাবেটের পরীক্ষামূলক গবেষণাগার এক্সে পেজকে সবসময় দেখা যায় স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করতে। এক্সেই কাজ হয় ইন্টারনেট-বিমিং বেলুন, ড্রোনসহ যাবতীয় বিষয়ে। কাজের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার সময় তুলে ধরেন স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গি। বিভিন্ন বিষয়ে তার রয়েছে ভিন্ন ধারার চিন্তাভাবনা।

 

পৃথিবীকে পাল্টে দেয়া যায় কিভাবে?
অস্বস্তিদায়ক রোমাঞ্চে ঘেরা কাজ সম্পাদনে সবসময় কঠোর পরিশ্রম করো।


উদ্ভাবনই করেই কি একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়?
উদ্ভাবন কোন কাজের জন্যই যথেষ্ট নয়। টেসলা উদ্ভাবিত বিদ্যুৎ শক্তি আমরা ব্যবহার করি। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মানুষকে কাঠখড় পোড়াতে হয় বিস্তর। এ ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের সমন্বয় জরুরি। এর সঙ্গে প্রয়োজন একটি প্রতিষ্ঠান, যা পণ্যগুলোর বাণিজ্যিক বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এসব পণ্য পৌঁছে দেয়া যাবে সাধারণের কাছে।


প্রযুক্তিপণ্যে শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটুকু প্রয়োজন?
আমরা যা করি, এর সব কিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ শৈল্পিক উপাদান রয়েছে বলে আমার মনে হয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ শৈল্পিক উপাদানগুলো অনুসন্ধানের চেষ্টা করি সবসময়।


কোন ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করা উচিত?
সম্ভাবনার ক্ষেত্রে আমরা ১ শতাংশ হতে পারি। দ্রুত পরিবর্তন সত্ত্বেও কোনো বিষয়ে সুযোগ তৈরি হলে তা বাস্তবায়নে এখনো আমরা দেরি করি। এর কারণ নেতিবাচক ধ্যানধারণা বলেই মনে হয় আমার। গুগলের সঙ্গে তুলনা করে লেখা হয় অনেক প্রতিবেদন। এর প্রতিটিই আমি পড়ি। খুবই বিরক্তিকর এসব লেখা। আমাদের উচিত যেসব পণ্য এখনো উদ্ভাবন হয়নি, সেগুলো নিয়ে কাজ করা।


প্রতিষ্ঠানের ফোকাস ঠিক রাখা কতটুকু জরুরি?
অনেক প্রতিষ্ঠান সফল হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে তাদের মৌলিক পর্যায়ের ভুলগুলো কী সেগুলোর অনুসন্ধান তারা করে না। তাই ভবিষ্যৎটাও হারিয়ে যায়। আমি ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাজ করি। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের ফোকাস ঠিক রাখা।


মানুষের বদলে রোবট কতটুকু সফল?
কর্মক্ষেত্রে সবারই ক্রীতদাসের মতো কাজ করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। এ ধারণা থেকে চাকরি রাখার জন্য তারা অপ্রয়োজনীয় অনেক কাজ করেন। কিন্তু এর কোনো ভিত্তি নেই আমার কাছে।


অর্থ দ্বারা কতটুকু অনুপ্রাণিত হন?
অর্থ দ্বারা অনুপ্রাণিত হলে অনেক আগেই প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিতাম। কোম্পানি বিক্রির অর্থ নিয়ে সমুদ্রতীরে যেতাম অবকাশ যাপনে। কিন্তু তা হয়নি। কারণ অর্থই সব নয়।


সিইও হিসেবে আপনার সফলতা কী?
প্রতিষ্ঠান বেশ সম্ভাবনাময়। অনেক সুযোগ আছে কর্মীদের কাছে এটা প্রমাণ করাই নেতা হিসেবে আমার কাজ। তাহলেই তারা তাদের কাজের অর্থ খুঁজে পাবেন। এর প্রভাবে সমাজের কল্যাণে কাজের পরিমাণ বাড়বে। গুগলকে নেতৃত্ব দেয়াই আমার লক্ষ্য, অনুসরণ নয়।


উচ্চাকাক্সক্ষী ল্যারি পেজের সাফল্যের মন্ত্র কী?
প্রতিটি মানুষে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম ও সবাই ব্যবহার করতে পছন্দ করে এমন প্রযুক্তি নির্মাণ করতে চাই আমরা। সৃষ্টি করতে চাই সুন্দর, অন্তর্জ্ঞানলব্ধ সেবা ও প্রযুক্তি, যা খুবই প্রয়োজনীয়। এসব বিষয় মানুষ দিনে দু’বার ব্যবহার করতে পারবে। বিষয়টি ঠিক টুথব্রাশের মতো। দিনে দু’বার ব্যবহার করা যায়, এমন পণ্যের সংখ্যা পৃথিবীতে খুব বেশি নেই।’


সুপার স্মার্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে?
ব্যবস্থাপক গভীর জ্ঞানী হলে তা সহজেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুপ্রাণিত করে। আর আমার সেই সক্ষমতা আছে।


গুগল বনাম অ্যাপলের দর্শন কী?
স্টিভ জবসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমি প্রায়ই বিতর্ক করতাম। তোমরা একই সময় অনেক কিছু নিয়ে কাজ করো। জবস একটা-দুটো পণ্য নিয়ে কাজ করেছেন। এর প্রতিটিই ভালো হয়েছে। কিন্তু আমরা অনেক কাজ করার মধ্য দিয়ে বিশ্বে বড় প্রভাব ফেলতে চাই।


ভোক্তা প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেয়াটা কতটুকু যৌক্তিক?
১০ জন কর্মী নিয়ে একটি কোম্পানি নির্মাণ করা যায়। আর এতে তৈরি পণ্য ব্যবহার করতে পারেন শতকোটি গ্রাহক। এর জন্য খুব বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয় না। তবে উপার্জন করা যায় অনেক। মুনাফা করা যায়, এমন কাজেই সবাই ঝুঁকবে। ভোক্তা প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেয়াটা তাই স্বাভাবিক ব্যাপার।


গুগলের সেলফোন লক্ষ্য কী?
কম্পিউটারের অবস্থান এখনো বেশ অস্থিতিশীল বলে আমাদের ধারণা। কেমন যেন হ-য-ব-র-ল। কিন্তু টাচস্ক্রিন ফোন স্ক্রল করে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই যাওয়া যায়। তাই সেলফোন ডিভাইস নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে গুগল।