যে ডিম খেলে হবেনা ক্যান্সার

Oct 09, 2017 07:32 pm
শরীর গড়তে ডিমের যে কোনও বিকল্প নেই



ডিমের উপকারিতা আমরা সবাই জানি। শরীর গড়তে ডিমের যে কোনও বিকল্প নেই। ডিমের আরো অবিশ্বাস্য উপকারিতার কথা জানিয়েছেন জাপানি বিজ্ঞানীরা । সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একদল গবেষক জানিয়েছেন, তারা জেনেটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সাহায্যে মুরগির ডিমের মধ্যে এমন একটি ড্রাগের প্রবেশ ঘটাবে, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্যান্সার সেলে ধ্বংস হয়ে যেতে শুরু করবে, ফলে কমবে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ।


গবেষকরা জানিয়েছেন তারা "ইন্টারফেরন বিটা" নামক বিশেষ এক ধরনের প্রোটিন তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যে প্রোটিন ডিমের মধ্যে ঢোকানো হবে। এই ডিম খেলে একদিকে যেমন ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তেমনি মাল্টিপেল স্কেলেরোসিস এবং হেপাটাইটিসের মতো রোগও দূরে থাকবে। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত গবেষকরা তিনটি মুরগির শরীরে জেনেটিকাল পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যাটা যে আরও বাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। তবে সমস্যা একটাই। জাপানে নতুন কোনও ফার্মাসিউটিকাল প্রোডাক্ট বাজারে থাড়তে হলে একাধিক নিয়মকানন পেরতে হয়। তাই "সোনা"র মুরগির এই ডিম সাধারণের মানুষের কাছে আসতে যে আর কিছুটা সময় লাগবে, তা বলা যেতেই পারে। তবে তাই বলে সাধারণ ডিম খাওয়া কমাবেন না যেন! আমরা জানি, শরীরকে চাঙ্গা রাখতে ডিমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই প্রকৃতিক উপাদানটি নানাভাবে শরীরে কাজে লাগে। যেমন...


১. ভিটামিনের ঘাটতি দূর করে: শরীরকে সচল রাখতে প্রতিদিন বি২, বি১২, এ এবং ই ভিটামিনের প্রয়োজন পরে, যার জোগান দিতে ডিমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, ভিটামিন বি২ এনার্জির ঘাটতি পূরণ করে, যেখানে বি১২ লহিত রক্ত কণিকার ঘটতি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর "এ" এবং "ই" ভিটামিন কী কাজে লাগে? ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়। আর ই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিযে রোগমুক্ত জীবনের পথ প্রশস্ত করে।


২. ওজন কমায়: অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় আছেন? তাহলে প্রতিদিন ব্রেকফাস্টে একটা করে ডিম খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ওজন কমবে চোখে পরার মতো। আসলে ডিমের অন্দরে থাকা একাদিক উপকারি উপাদান অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ কম হওয়ায় ওজন কমতে সময় লাগে না।


৩. খনিজের ঘাটতি দূর করে: ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, জিঙ্ক এবং ফসফরাস। এই খনিজগুলি রক্তাল্পতা দূর করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতিতে এবং হাড়ের শক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, ডিমে সেলেনিয়াম বলে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সার রোগের প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. প্রোটিনের ঘাটতি দূর করে: একটা ডিমে কম বেশি প্রায় ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। আর দিনের চাহিদা হল ৫০ গ্রাম প্রোটিন। তাই দিনে কম করে তিনটি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনটা করলে প্রায় ১৯.৫ গ্রাম প্রোটিনের ঘাটতি মেটে। বাকিটা মাছ, মাংস অথবা ডায়াটারি প্রোডাক্টের মাধ্যমে পূরণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এবার থেকে তাই দিনে ৩ টে ডিম খেতে ভুলবেন না যেন!

৫. ব্রেস্ট ক্যান্সারকে দূরে রাখে: হাবার্ড ইউনিভার্সিটির করা এক গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে কম করে ৬ টা ডিম খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে যায়। আসলে ডিমে উপস্থিত কোলিন নামক একটি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে: প্রতিদিন নিয়ম করে ডিম খেলে শরীরে উপকারি কোলস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা যত কমবে, তত হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়বে। তাই পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে ডিম খেতে ভুলবেন না যেন!

আরশিয়া